লকডাউন ডায়েরি – ১৯ মে, ২০২০

১৯.‌০৫.‌২০২০। মঙ্গলবার

সকাল ৯.‌৩৬

সকাল থেকে চারদিকটা থমথমে হয়ে আছে। এটাই কি ঝড়ের আগের নৈঃশব্দ্য? ‘‌লাল বিফোর দ্য স্টর্ম’?‌ প্রকৃতি কি এই সময়টায় থমকে থেকে এনার্জি স্টোর করে?‌ যাতে পরে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে?‌ চারদিক থেকে যা শুনছি, তাতে তো মনে হচ্ছে মহাপ্রলয় আসছে। সৃষ্টির শেষদিন সমাগত।

টিভি দেখে মনে হচ্ছে আমপান আপাতত করোনাকে একটা শোল্ডার ড্যাশে ছিটকে ফেলে দিয়েছে সাইডলাইনের বাইরে। শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় পর্যায়েও এই সুপার সাইক্লোন নিয়ে অভূতপূর্ব তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ক্যাবিনেট সচিব— সকলে ঘনঘন বৈঠক করছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবের সঙ্গেও আলোচনা করা হচ্ছে। সারা দেশ থেকে বিভিন্ন লোকজন সোশ্যাল মিডিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ এবং ওডিশার জন্য প্রার্থনা করছেন। এসব দেখে আরও মনে হচ্ছে, করোনা এখন পিছনের বেঞ্চে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। তার জায়গা নিতে চলে এসেছে আরও দুর্বিনীত ছাত্র।

আমার নিজস্ব একটা প্রিয় থিওরি আছে। যেটা সফল বলে প্রমাণিত— রাষ্ট্র, কোম্পানি আর প্রকৃতির সঙ্গে লড়ে জেতা যায় না। চারপাশ দেখে সেই থিওরিটাকে আরও একটু পরিমার্জিত করলাম। প্রকৃতিই সর্বশক্তিমান। রাষ্ট্র এবং কোম্পানিও মাঝেমাঝে তার সঙ্গে লড়ে জিততে পারে না।

দুপুর ১.‌২০

বৃষ্টি নামল। খুব বেশি জোরে নয় অবশ্য। একটু ঘ্যানঘ্যানে। বিষন্ন। মনখারাপ করা। এটাও বোধহয় আমপানেরই প্রিল্যুড। ইদানীং স্যাটেলাইটের কল্যাণে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনেক বেশি নিখুঁত হয়। সেই কারণেই মনে হচ্ছে, আমপান–পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরাল হচ্ছে। আয়লা, বুলবুলের চেয়েও এই ঘূর্ণিঝড় অনেক বেশি শক্তিশালী। ফলে অনেক বেশি ক্ষতি করার ক্ষমতাসম্পন্ন।

এইসব সময় এলেই আমার নিজের কভার করা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের অ্যাসাইনমেন্টের কথা মনে পড়ে। কতটা কী করতে পেরেছি, সেটা ইতিহাস বলবে। কিন্তু প্রচুর বিপর্যয়ে অ্যাসাইনমেন্টে গিয়েছি। তার মধ্যে প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট ছিল মুর্শিদাবাদের গোকর্ণে টর্নেডোর কভারেজ। কলকাতা থেকে সারারাত অফিসের গাড়িতে করে যাওয়া। সঙ্গী ফটোগ্রাফার চণ্ডীদা। টেরিফিক নার্ভাস। অফিস থেকে বেরোনর আগে বারতিনেক পটি করে নিল। আর রাস্তায় যত ঠাকুবদেবতার থান দেখল, কপালে মাথা ঠেকিয়ে বিড়বিড় করল। ভোরে গিয়ে পৌঁছলাম ঘটনাস্থলে।

জীবনে সেই প্রথম প্রকৃতির চণ্ডরূপ অত কাছ থেকে দেখা। এখনও মনে আছে, একটা আস্ত যাত্রীবোঝাই বাসকে কয়েক কিলোমিটার উড়িয়ে নিয়ে ফেলেছিল ঘূর্ণিঝড়। যাত্রীরা কোথায় উড়ে গিয়ে পড়েছিলেন কে জানে!‌ তবে দেখেছিলাম, বাসটার চেসিস একদিকে। আর চারটে চাকা পরস্পরের থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরত্বে পড়ে আছে। তাল আর নারকেল গাছের মাথাগুলো মনে হচ্ছিল কেউ করাত দিয়ে কেটে দিয়েছে। কবন্ধ গাছের সারি দাঁড়িয়ে আছে নির্জন প্রান্তরে। রাস্তাঘাট ভেঙে চৌচির। গাড়ি রেখে হাঁটতে হাঁটতে গ্রামের পর গ্রাম ঘোরা। গাদাগাদা গৃহহীন মানুষ একফোঁটা ত্রাণের জন্য চিলুবিলু করছেন। দেখে ডিপ্রেশন হয়।

সারাদিন ঘোরাঘুরি করে বিকেলে বহরমপুর ফেরার পর সার্কিট হাউসে সরকারের প্রেস কনফারেন্স। রাজ্যের অন্তত ছ’জন মন্ত্রী হাজির। একে একে সাংবাদিকরা পরিচয় দিচ্ছে। ‘আনন্দবাজার’ বলতেই অধুনাপ্রয়াত এবং তৎকালীন ত্রাণমন্ত্রী ছায়া ঘোষ বললেন, ‘আমার কিন্তু আনন্দবাজারের বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আছে।’

তখন প্রফেশনে সবে কয়েকবছর হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যেই যথেষ্ট ডেঁপো এবং ঢ্যাটা বলে পরিচিতি লাভ করেছি। ফলে মৃদু হেসে ওঁকে বললাম, ‘আনন্দবাজারের বিরুদ্ধে তো আপনাদের সবসময়েই অভিযোগ থাকে। বলুন।’

— আমি কাল গোকর্ণে অনেক রাত পর্যন্ত ত্রাণ বিলি তদারক করেছি। কিন্তু আমার নামটা আজ আনন্দবাজার লেখেনি!‌

ডেঁপো এবং ঢ্যাটা ছেলেটির হাসি আরও মৃদু এবং ফিচেল হল। সে বর্ষীয়ান মন্ত্রীকে পাল্টা প্রশ্ন করল, আপনি কি আনন্দবাজারে নাম তোলাতেই ওখানে গিয়েছিলেন?‌

ছায়া’দি একটু ভেবলে গেলেন। কী উত্তর দেবেন যখন মনে মনে গোছাচ্ছেন, তখন পরিস্থিতি ঘোরাল হয়ে যাচ্ছে দেখে আসরে নামলেন শ্যামল’দা। রাজ্যের তৎকালীন পরিবহণ মন্ত্রী পরিবেশ লঘু করার চেষ্টায় হাসতে হাসতে বললেন, ‘আরে, ও তো অনিন্দ্য। খুব ভাল ছেলে। আমার পাড়ায় থাকে।’ তারপর ব্যাপারটা সত্যিই আর অতটা গুরুগম্ভীর রইল না। দিনচারেক ছিলাম। বিধ্বস্ত হয়ে ফিরলাম কলকাতায়।

ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল গুজরাত ভূমিকম্প কভার করতে গিয়ে। অন্যের নামের একটা এয়ারটিকিট যোগাড় করে আমেদাবাদ থেকে ভুজ এয়ারবেসে নেমেছিলাম। রানওয়েতে ফাটল ধরেছে। কোনওমতে বোয়িং ল্যান্ড করিয়েছিলেন পাইলট। বাইরে বেরিয়ে গোটা তিনেক আর্মির ট্রাকে হিচ হাইক করে পৌঁছেছিলাম শহরে।

অত সম্পন্ন একটা শহর মুহূর্তে গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। বহুতল বাড়িগুলো হেলে পড়েছে। বিপজ্জনকভাবে ঝুলছে। ক্লক টাওয়ারের ঘড়ি থমকে। সবচেয়ে অবাক লেগেছিল দেখে যে, সম্ভ্রান্ত চেহারার মানুষজন ত্রাণের ট্রাকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন। দাবি কী?‌ খাবারদাবার নয়। একটা সামান্য জলের পাউচ। ট্রাক থেকে গাদা গাদা পাউচ ছুড়ে ফেলা হচ্ছে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জনতার দিকে। আর তৃষ্ণার্ত মানুষ লাফিয়ে–ঝাঁপিয়ে ক্যাচ লুফে সেগুলো নিয়ে কাড়াকাড়ি করছে। ওই দৃশ্যটা কখনও ভুলব না। বানিয়া গুজরাতি তখন রাস্তার ভিখারিতে পরিণত। তখনই প্রথম মনে হয়েছিল কথাটা— প্রকৃতির সঙ্গে লড়ে জেতা যায় না। অর্থ, মান, প্রভাব, প্রতিপত্তি— কিচ্ছু কাজ করে না। ফুটপাথবাসী আর মিলিওনিয়ার এক সারিতে দাঁড়িয়ে থাকে ত্রাণের খিচুড়ির জন্য।

ভুজটা তা–ও প্লেনে করে যেতে পেরেছিলাম। অন্যত্র সর্বত্র গাড়িতে। জানুয়ারির মারুনে ঠাণ্ডায় আমেদাবাদ থেকে গভীর রাতে একটা টাটা সুমো নিয়ে বেরোতাম। ড্রাইভার গুটখা খেতে খেতে ঘুম তাড়িয়ে গাড়ি চালাত। পিছনের সিটে বিস্কুটের প্যাকেট আর জলের বোতল নিয়ে বসে বসে ঢুলতাম। সময়ের অঙ্ক কষে ঠিক ভোরবেলা ঈপ্সিত গন্তব্যে পৌঁছতাম। কোনওদিন আঞ্জার, কোনওদিন ভাচাউ, কোনওদিন কান্দলা। ভোরবেলা পৌঁছে ম্যাক্সিমাম বেলা ১২টা পর্যন্ত কাজ করতাম। তারপর আবার গাড়ি নিয়ে আমেদাবাদের পথে। দূরত্ব হিসেব করে বিকেলের মধ্যে ঢুকতাম আমেদাবাদে। হোটেলে বসে ঝাঁ ঝাঁ করে কপি লিখতাম। ততক্ষণ আমার রথের সারথি কিছু খেয়ে নিয়ে গাড়ির মধ্যে টেনে ঘুমোত। তারপর অফিসে কপি ফ্যাক্স করে আবার জল–বিস্কুট বগলদাবা করে রাতে বেরিয়ে পড়তাম পরবর্তী গন্তব্যের পথে।

টানা এক সপ্তাহ এই ছিল গুজরাত ভূমিকম্প কভারেজের রুটিন।

এরপর বড় বিপর্যয় সুনামি। সমুদ্রের উপকূল ধরে চেন্নাই থেকে দক্ষিণ ভারতের যে’কটা শহরে গিয়েছিলাম, সর্বত্র একই দৃশ্য। দোতলা, তিনতলা সমান উঁচু ঢেউ এসে সাগরতীরে এক থেকে দু’কিলোমিটার এলাকা যেন ধুয়ে সাফ করে নিয়ে গিয়েছে। তার ওপারে আবার সব স্বাভাবিক। দেখে আশ্চর্য লেগেছিল। পুদুচেরি শহরটা বেঁচে গিয়েছিল সমুদ্রের পাড়ে বোল্ডারের শক্ত বাঁধ থাকায়। একমাত্র ওই শহরটার সমুদ্রতটে সামান্যতম ক্ষতিও হয়নি।

আমপান নিয়ে যে পরিমাণ আতঙ্ক, উদ্বেগ এবং শঙ্কা দেখছি, তাতে ওই দিনগুলো আবার মনে পড়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, আবার যদি কাঁধে ব্যাকপ্যাক, ট্রাউজার্সের পকেটে বিস্কুটের প্যাকেট আর হাতে জলের বোতল নিয়ে বেরিয়ে পড়া যেত!‌

দুপুর ২.‌৩৬

আজ থেকে অনেকে কাজে বেরোতে শুরু করেছে। ফেসবুকে তেমনই দেখছি। প্রায় দু’মাস পর আবার স্বাভাবিকতার দিকে ফেরার চেষ্টা শুরু। দরজা অল্প ফাঁক করে বাইরের আলোয় বেরিয়ে একটু দাঁড়ানো। দেখে নেওয়া যে, তাতটা কেমন এখন।

সমস্যাটা হল, এখন এই লোকগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখা শুরু হবে। সারাদিন পর তারা বাড়ি ফিরলে এমন একটা ভাব করা হবে যে, ছোঁয়া লাগলে জাত যাবে। এটা একটা প্রবলেম্যাটিক জোন তৈরি হতে চলেছে বলে মনে হচ্ছে। টিদিং ট্রাবলের মতো। নতুন কিছু শুরু হলে যেমন হয় প্রথম প্রথম। এটাও তো একটা নতুন জীবন, নতুন যুগেরই শুরু।

মনে হয়, আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। অবশ্য না হয়েই বা উপায় কী!‌

দুপুর ২.‌৫৮

যা দেখছি, আমপান নিয়ে একটা যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, কাল থেকে তুমুল বৃষ্টি শুরু হবে দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত জেলায়। সুন্দরবনের গা ঘেঁষে দিঘা এবং হাতিয়া দ্বীপের উপর দিয়ে এই সুপার সাইক্লোন বয়ে যাবে। নির্ধারিত সময় বেলা ২টোর কাছাকাছি। ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘন্টায় ১৬৫ থেকে ১৭৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ঘন্টায় ১৮৫ কিলোমিটার। কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ থাকবে ঘন্টায় ১৩৫ কিলোমিটার।

আবহবিদেরা বলছেন, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে। আবহাওয়া দফতর রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কাল যেন কলকাতা এবং লাগোয়া এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। ইতিমধ্যেই সমুদ্র উত্তাল। মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে সবমিলিয়ে ‘ম্যাসিভ ড্যামেজ’ হবে। ভয়াবহ ক্ষতি হবে ফসলের। বৃষ্টিতে কাঁচা এবং এমনকী, দুর্বল পাকা বাড়িও ধসে পড়তে পারে। তবে কলকাতায় যে সমস্ত চার বা পাঁচতলা বাড়ি তৈরি হয়, সেগুলি ঘন্টায় ২২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস সামলাতে পারে। তবে ভেঙে পড়বে গাছ এবং বিদ্যুতের খুঁটি। ফলে ব্যাহত হতে পারে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ব্যক্তিগতভাবে এই ব্যাপারটা নিয়েই সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি। কারেন্ট না থাকলে গোটা বাড়ির সিস্টেম ভেঙে পড়বে। বন্ধুবান্ধবরা বলছে, মোবাইল ইত্যাদিতে আগে থেকে ভাল করে চার্জ দিয়ে রাখতে। যাতে পরে বিপদে না পড়ি।

এ জিনিস লকডাউনেও হয়নি!‌

দুপুর ৩.‌৩৭

আমপান নিয়ে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলছেন, এই ঝড়ের তিনটি অংশ— মাথা, চোখ আর লেজ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘সবচেয়ে প্রথমে মাথা হিট করবে। যখনই দেখবেন, ঋড়টা থেমে যাচ্ছে, ভাববেন না থেমে গেল। আরও একটা বড় দমকা আসবে। সেটা আই। এরপর লেজ এসে মুড়িয়ে নিয়ে যাবে। ফণীতে যেমন ওডিশায় লেজটাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছিল।’

কাল দুপুর থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ল্যান্ডফল হওয়ার কথা আমপানের। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কাল দিনেরবেলা থেকে শুরু করে রাতেও তিনি নবান্নেই থাকবেন। আজ তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। যদি কোনও সাহায্য প্রয়োজন হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার সমস্ত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি। এখন বলছেন, ‘আমরা সবরকমভাবে প্রস্তুত আছি। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষেরও বেশি লোককে সরিয়ে আনা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রে। বুলবুলে আমরা প্রায় ১ লক্ষ ৮০ হাজার মানুষকে ইভ্যাকুয়েট করেছিলাম।’

বিকেল ৫.‌০৫

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আগামী শুক্রবার নিজেদের মধ্যে ভিডিও বৈঠক করবেন বিরোধী নেতানেত্রীরা। সেখানে থাকবেন সোনিয়া গান্ধী, শরদ পওয়ার, এম কে স্ট্যালিনরা। থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও। তিনি আজ বলেছেন, ‘সবসময় তো সরকারের সঙ্গেই বৈঠক হয়। বিরোধীরাও নিজেদের মধ্যে কথা বলুক না। খারাপ কী?‌ বিভিন্ন রাজ্যে করোনার পরিস্থিতি কেমন, কীভাবে সকলে মিলে এর মোকাবিলা করা যায়। তা নিয়ে কথা হবে। তাছাড়া, যেভাবে সামান্য কয়েকঘন্টার নোটিসে লকডাউন জারি করা হয়েছিল, সেটা নিয়েও বিরোধীদের অনেকের আপত্তি আছে। তাই আমরা ঠিক করেছি, নিজেদের মধ্যে কথা বলব।’

করোনা–সময়ে বিরোধীদের নিজেদের মধ্যে এই যোগাযোগ নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক। এনআরসি ইস্যু পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। আন্দোলনের নতুন বিষয় তৈরি করতে হবে। ফলে এখন করোনা মোকাবিলা সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে চারদিক থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে অভিমন্যুর মতো ঘিরে ধরা। এখন কথা হচ্ছে, বিরোধীদের এই ঐক্য কতদূর কী করতে পারবে। সেটা অবশ্য বলবে ভাবীকাল। যা আসতে আপাতদৃষ্টিতে এখনও চারবছর বাকি। ২০২৪ সাল। পরের লোকসভা ভোট।

রাত ৮.‌৫৩

যত রাত বাড়ছে, তত বাড়ছে আমপান নিয়ে আতঙ্ক এবং আশঙ্কা। সোশ্যাল মিডিয়ায় কন্ট্রোলরুম আর হেল্পলাইন নম্বরের ছড়াছড়ি। চারদিকে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি। তার মধ্যে যে প্রস্তুতিটি আমার বুকে শেল হেনেছে, সেটা ঘটেছে আজ দুপুরে। অফিসে বেরোনর আগে দেখলাম পাশের বাড়ির ছাদে উঠে বাঁশের মাথায় লাগানো আঁকশির ডগায় প্লাস্টিকের থলে লাগানো একটা শস্ত্র দিয়ে যাবতীয় আম পাড়া হচ্ছে।

ফলে আমপানের আমই আর রইল না!‌ আর পানদোষ আমার নেই। ফলে হাতে রইল পেনসিল। লকডাউন ডায়েরি লেখার জন্য।

রাত ১০.‌২৩

চারদিক আরও থমথম করছে। ঘ্যানঘ্যানে ইলশেগুঁড়ি ঝরছে আকাশ থেকে। গাছের পাতা–টাতাও তেমন নড়ছে না। রাতটাকে খুব রাগী আর গম্ভীর লাগছে আজ।

পরিমার্জিত থিওরিটা আবার মনে মনে আউড়ে নিলাম— প্রকৃতিই সর্বশক্তিমান। কখনও কখনও রাষ্ট্র এবং কোম্পানিও তার সঙ্গে লড়ে জিততে পারে না।

2 thoughts on “লকডাউন ডায়েরি – ১৯ মে, ২০২০

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s