লকডাউন ডায়েরি – ২৮ এপ্রিল, ২০২০

২৮.‌০৪.‌২০২০। মঙ্গলবার

সকাল ১০.‌০৫

যন্ত্রণার কিছু রকমফের হয়। একটা সুইট পেইন। একটা ইনজুরি পেইন। সকালে ঘুম ভাঙার পর বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে শরীরের তন্ত্রীতে তন্ত্রীতে যে যন্ত্রণাটা হল, ওটা সুইট পেইন। মিষ্টি একটা ব্যথা। যে ব্যথার সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নিতে হয়। না নিলে ল্যাদ খেয়ে বিছানায় পড়ে থাকতে হয়। ফলে আমি বন্ধুত্বই করে নিলাম। আসলে এমন ছোট ছোট অ্যাচিভমেন্টের ভিতর দিয়ে নিজেকে মোটিভেট করার চেষ্টা।

সকাল ৯টার কিছু আগে মা মন্দিরাকে স্মরণ এবং সুইট পেইনকে সঙ্গী করে নেমে পড়লাম দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে ভয়াবহ দিনের ওয়ার্ক আউটে। কষ্ট কি আর হল না?‌ বিলক্ষণ হল। কিছু বেশি ব্রেক নিতে হল। কিছু বেশি ঢোক জল খেতে হল। তবু হল। হাঁফাতে হাঁফাতে নরেন্দ্রপুরের মিশন টিমে খেলার সময়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অরুণ’দা খাটিয়ে খাটিয়ে জিভ বার করে দিতেন। উরুর পেশির শক্তি বাড়ানোর জন্য স্টেডিয়ামের গ্যালারি বেয়ে ক্রমাগত ওঠানামা করাতেন। হ্যা–হ্যা করে জিভ বার করে হাঁফাতাম। তা–ও ছাড়তেন না। বলতেন, ‘শোন, যে সময়টা মনে হবে আর পারছিস না, তখনই নিজেকে চাবুক মেরে ছোটানোর সময়।’ বুঝতাম, প্রাক্তন ফুটবলার বলতে চাইছেন, ধুঁকতে ধুঁকতে যে খাটুনিটা খাটা যায়, সেটাই দিনের শেষে স্ট্যামিনায় বাড়তি ভ্যালু অ্যাড করে।

ফলে অরুণ’দা আবার দৌড় করাতেন। স্প্রিন্ট টানাতেন। স্ট্রেচিং করাতেন। কান্না পেত। প্রতিদিন ট্রেনিংয়ের পর ধুঁকতে ধুঁকতে হস্টেলে ফিরে এসে প্রতিজ্ঞা করতাম, অনেক হয়েছে!‌ হার্মাদগিরি করে দরকার নেই। চুলোয় যাক মিশন টিমের হয়ে ফুটবল খেলা!‌ এর চেয়ে বরং লেখাপড়া–করা পুতুপুতু ছাত্র হয়ে থাকব। কিন্তু পরদিন আবার নিশির ডাকের মতো মাঠটা টানত। স্কুল ছুটির পর বুট বগলে দৌড়তাম। অরুণ’দা কোমরে হাত দিয়ে জিমন্যাশিয়ামের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতেন। দূর থেকে আসতে দেখে একটা সার্ফ এক্সেল হাসি হাসতেন।

ওই হাসিটাই আজ নিজেকে আয়নায় দেখে হাসলাম। ঘড়িতে ৯টা ৫৫ বাজে। ওয়ার্ক আউট শেষ। মোটামুটি দরের ওয়ার্ক আউট। অ্যাম হ্যাপি অ্যাবাউট মাইসেল্‌ফ। এবার সারাদিনের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া যাবে। গুরুমা মন্দিরার প্রতি শ্রদ্ধা আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।

কাল ১০.‌৩০

একটা ইন্টারেস্টিং টুইট দেখলাম। কোভিড–১৯ কোন কোন সারফেসে কতদিন থাকতে পারে। এইবেলা লিখে রাখি।
কাচ– ৫ দিন
কাঠ– ৪ দিন
প্লাস্টিক বা স্টেনলেস স্টিল– ৩ দিন
কার্ডবোর্ড– ২৪ ঘন্টা
তামার সারফেস– ৪ ঘন্টা
ভাইরাস একা একা বাঁচতে পারে না। তাকে একটা হোস্ট খুঁজতে হয় নিজেকে প্রতিস্থাপিত করতে। সেটা মানবদেহ হলেই সমস্যা। সমস্যাও নয়। বিপদ। ঘোর বিপদ।

গতকাল রাতে সুদীপ্তা জানাল, শো–টা জি বাংলার। ওর নয়। আর ওর একারও নয়। অন্যরাও আছে। নিশ্চয়ই তা–ই। আসলে ফেসবুকে ওর পোস্টটা দেখে ডায়েরিতে লিখেছিলাম। সেখানে অন্য শিল্পীদের কথা সেভাবে ছিল না। টেকনিশিয়ানদের কথা ছিল। তাই অন্য শিল্পীদের কথা জানতামও না। ফলে একটু গুবলেট হয়ে গিয়েছে। প্রশংসা করতে গিয়ে এবং ওকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে সম্ভবত খানিকটা বিড়ম্বনাতেই ফেলেছি। ওকে বললাম, আজকের ডায়েরিতে ঠিক করে দেব। করেও দিলাম এই এন্ট্রিতে। আশা করলাম, শো সুপারহিট হবে।

আর পাশাপাশি বুঝলাম, শো–বিজ রিপোর্টিংটা কোনওদিনই আমার মাথায় ঢুকবে না। ওর জন্য বোধহয় আলাদা স্কিল দরকার। যা আয়ত্ত করা আমার সাধ্যের বাইরে ছিল, আছে এবং থাকবে।

সকাল ১০.‌৪৫

এই সময়টায় টিভি–তে কোনওদিন বাস্তিল দুর্গের পতনের কারণ, কোনওদিন পৃথিবীর আকৃতি কেন অভিগত গোলকের (‌মনে হয় টার্মটা ঠিক লিখলাম)‌ ‌মতো হয়, কোন প্রতিভাধর কীভাবে সেটা আবিষ্কার করেছিলেন— এসব পড়ানো হয়। যা কোনওদিন আমার মাথায় ঢোকেনি। ইস্কুলেও নয়। ঢুকলে কি আর খবরের কাগজে জোয়াল ঠেলতাম! ‌আইএএস–টাইএএস হয়ে মন্ত্রীদের ‘স্যার, স্যার’ করে হাত কচলাতাম। এখন এই বৃদ্ধবয়সে ঢুকবে, এমন কোনও আশাও নেই। ফলে এখন টিভি বন্ধ করে কিঞ্চিৎ বিশ্রাম করাই ভাল।

তবে এরই ফাঁকে লিখে রাখি, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদল আজ সকালে সল্টলেকের আমরি হাসপাতালে গিয়েছিল পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে। ঘটনাচক্রে, ওই হাসপাতালে কাল রাতে মৃত্যু হয়েছে এক চিকিৎসকের। অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ওই চিকিৎসকের নাম শিশিরকুমার মন্ডল। বয়স ৭০ বছর। বেলভিউয়ে যুক্ত ছিলেন বলে শুনলাম। আবার তার আগেরদিন ওই হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছিল স্বাস্থ্য অধিকর্তা তথা চিকিৎসক বিপ্লবকান্তি দাসের। শিশিরবাবু রাজ্যের দ্বিতীয় চিকিৎসক যাঁর মৃত্যু হল করোনায়। সেই কারণেই কি আজ সকাল সকাল কেন্দ্রীয় দল সল্টলেক আমরিতে গেল?‌ দেখছি, আরেকটা কেন্দ্রীয় দল শিলিগুড়ির এক বেসরকারি হাসপাতালে ঢুকেছে।

বেলা ১১.‌১৫

ধূম বৃষ্টি নেমেছে। চারদিক ঝাপসা। বারান্দায় জল জমে যাচ্ছে। বহু আগে যখন এই বাড়িতে থাকতাম, তখন ঘেমো গরমের পর সিজনের প্রথম বৃষ্টিটা এলে ছাদে উঠে ঝুপ্পুস ভিজতাম। সে বহুবছর আগেকার কথা। এখন আর সেসব হবে বলে মনে হয় না। যাকগে, ছাঁট আসছে। জানালা বন্ধ করি।

দুপুর ১.‌১৫

রাজ্যপাল আজ সকালে আবার একটা টুইট ছেড়েছিলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজভবনে একটা পত্রবোমা পাঠিয়েছে কল্যাণ’দা। খানিকক্ষণ আগে তার কপিটা পাঠালও হোয়াট্‌সঅ্যাপে। চার পাতার চিঠি। পড়ে দেখলাম, নিজের আইনের যাবতীয় জ্ঞান ঢেলে বোমা ছুড়েছে। জবাব দেওয়ায় কল্যাণ’দা ফোনও করল। বলল, ‘সংবিধান আর আইনের মধ্যে থেকেই যা বলার বলেছি। প্রপার, অ্যাপ্রোপ্রিয়েট অ্যান্ড উইদিন দ্য পারভিউ অফ ’ল। ভাল করে পড়ে দেখো।’ দেখলাম, কল্যাণ’দা লিখেছে, মিডিয়ায় মুখ না দেখালে রাজ্যপালের ঘুম হয় না। রাজ্যপালকে প্রকাশ্য বিতর্কেও আহ্বান করেছে লোকসভার সুবক্তা সাংসদ।

যা ভেবেছিলাম। এটা আরও বহুদূর যাবে। দু’ক্ষই মাথায় শিং লাগিয়ে নিয়েছে। এবার সেগুলো বাগিয়ে পরস্পরের দিকে দৌড় শুরু করেছে। এখন দেখার, এটা সেই অজা–যুদ্ধ, ঋষি–শ্রাদ্ধ বা প্রভাতে মেঘাড়ম্বরের মতো হয়ে যায় কিনা।

দুপুর ২.‌০০

২০২১ সালেও অনিশ্চিত অলিম্পিক!‌ অলিম্পিক কমিটির প্রধান জানিয়ে দিয়েছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আনলে অলিম্পিক করা যাবে না। আর পরের বছরেও অলিম্পিক না হলে টোকিও অলিম্পিক আর হবে না। এটা কিন্তু একটা গোলমেলে ব্যাপার হল। এটা মোটেই ভাল সঙ্কেত দিচ্ছে না।

অলিম্পিক যদি সত্যিই আগামী বছরেও না হয়, তাহলে অন্যান্য খেলাধুলোর ক্ষেত্রেও সেটা একটা অশনিসঙ্কেত। ওই প্লেয়ারগুলোর কী হবে?‌ এত তারকা। এত নক্ষত্র। এত চরিত্র। এরা কি আমাদের জীবন থেকে সাময়িকভাবে হারিয়ে যাবে?‌ এতগুলো হিরো এক ঝটকায় জাস্ট নেই?‌ তাহলে কি বিরাট আর অনুষ্কা আগামী একটা বছর বাড়িতে বসে পিডিএ করে আর তার ছবি তুলে সেগুলো ইনস্টাগ্রামে দিয়েই কাটাবে?‌ খেলার মতো বিনোদন দুনিয়াও তো অনিশ্চিত। এই সেদিনই এক সেলিব্রিটি বন্ধু বিমর্ষ এবং চিন্তিত টেক্সট করেছিল, ‘আমাদের মতো মানুষগুলো হঠাৎ করে কেমন অপ্রাসঙ্গিক আর অপ্রয়োজনীয় হয়ে গেলাম। তাই না?‌’ তাকে ভরসা দিয়েছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে বলে। কিন্তু কবে হবে, সেটা কি আমি নিজেও জানি?‌

আরও একটা কথা মনে হচ্ছিল। বিরাট যে জল খায়, সেটা বিদেশ থেকে আসে। কারণ ও আসল মিনারেল ওয়াটার খায়। আমরা তো মিনারেল ওয়াটার ভ্রমে বটল্‌ড ওয়াটার খেয়ে আত্মপ্রসাদ লাভ করে থাকি। কিন্তু বিদেশ থেকে সেই পানীয় জলের সাপ্লাই কি অক্ষুন্ন আছে এখন?‌ এই লকডাউনের মধ্যে?‌ না থাকলে কোন জল পান করছে ভারত অধিনায়ক?‌

দুপুর ৩.‌১১

৫৫ বছরের বেশি বয়সী পুলিশকর্মীদের ডিউটি না করে বাড়িতেই থাকার নির্দেশ দিয়েছেন মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার। কারণ, ইতিমধ্যেই মুম্বই পুলিশের তিনজন কর্মী করোনায় মৃত। আরও ৫৫ জন আক্রান্ত। বাহিনীতে পুলিশের সংখ্যা ৪৫ হাজার। তার মধ্যে কতজন ৫৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী কে জানে।

দুপুর ৩.‌৪২

অফিসে বসে বসে ভাবছিলাম, এখন জীবনে শুধু তিনটেই রং— লাল, কমলা আর সবুজ। রেড, অরেঞ্জ অ্যান্ড গ্রিন। এখন আর রামধনুর সাত রং চোখে দেখতে পাই না। খালি এই তিনটে রংই দেখি আর অহর্নিশ ভাবি, লাল রংটা কবে কমলা হবে। আর কমলাটা কখন সবুজ হবে। এখন যেমন কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একটা অংশ এখন রেড জোনে। সেখান থেকেই ৭৫ শতাংশ কেস এসেছে। আর হাওড়া এবং হুগলির কিছু অংশ অরেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশের বেশিরভাগই এসেছে সেখান থেকে।

মনে হচ্ছিল, বে–নী–আ–স–হ–ক–লা বোধহয় এ জীবনে আর ফিরবে না। নতুন সংক্ষিপ্তসার রচিত হবে:‌ লা–ক–স।

এটাই বোধহয় এখন নতুন তেরঙা!‌

বিকেল ৪.‌০৮

গতকাল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছিলেন, আজ দেখা যাচ্ছে সেটাই বলছে কেন্দ্রীয় সরকার। যে, মৃদু করোনা পজেটিভ হলে বাড়িতেই কোয়ারেন্টিনে থাকা যাবে। অন্তত দুটো ঘর লাগবে। অ্যাটাচ্‌ড বাথরুম লাগবে। দু’জন হলে ভাল। নইলে অন্তত একজন প্রাইমারি কেয়ার গিভার লাগবে। তাঁদের হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ট্যাবলেট খেতেই হবে। রোগীকে ত্রিস্তরীয় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। বাকি যা যা গাইডলাইন আছে, তা–ও মেনে চলতে হবে। প্রত্যেকের শরীরের উপরেই নিয়মিত কড়া নজর রাখবে স্বাস্থ্য দফতর।

হোম কোয়ারেন্টিন চলাকালীন নিজের বাড়িটা কল্পনা করার চেষ্টা করছিলাম। পারলাম না!‌ আমার করোনা হলে আমায় কে কেয়ার দেবে?‌ আমার ৯৪ বছরের বাবা?‌ নাকি আমার ৮৫ বছরের মা?‌

কাল মুখ্যমন্ত্রী করোনা উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনের কথা বলার পর সেটা নিয়ে বেজায় হল্লা হয়েছিল। ন্যাশনাল লেভেলেও বিভিন্ন মন্তব্য হয়েছিল। গতকাল রাতেই অবশ্য স্বাস্থ্যসচিব বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, করোনায় আক্রান্ত হলে কোভিড হাসপাতালেই যেতে হবে। বাড়িতে থাকার প্রশ্ন নেই। আজও রাজ্য সরকার সেটাই বলেছে। করোনা উপসর্গ থাকলে সংশ্লিষ্ট রোগীকে নির্দিষ্ট হাসপাতালেই নিয়ে যেতে হবে। মুখ্যসচিব আজ বললেন, রাজ্যের করোনা পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে আরও সক্রিয় হতে হবে। করোনা রোগী গেলে কোনওমতেই ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না।

সন্ধ্যা ৬.‌১০

চেতলার বাড়ির দুই পড়শি দীপ দাশগুপ্ত আর রণদেব বসুকে ফোন করলাম। দীপ থাকে আমার পাশের ফ্ল্যাটে। রণদেব নীচের ফ্ল্যাটে। বহুদিন দু’জনের সঙ্গে দেখা হয় না। মনে হল একটু খোঁজ নিই। দু’জনেই ভাল আছে এবং বোর্‌ড হয়ে আছে। রণ রনি’দার কথা বলল। বলল, রন্‌জি ট্রফি ফাইনালের সময়েও খুব আড্ডা হয়েছিল। আমার গাড়ির পার্কিং খালি থাকায় রণ এখন সেখানে ওর গাড়ি রাখে। ফোন পেয়ে ভেবেছিল, আমি বোধহয় ফিরে গিয়েছি। তাই গাড়ি সরাতে হবে। ওকে যখন বললাম, তা নয়। স্রেফ খবর নিতে ফোন করেছি, তখন প্লেজেন্টলি সারপ্রাইজ্‌ড এবং আশ্বস্ত হল।

আজকাল কি লোকে কুশল–মঙ্গল জিজ্ঞাসা করে না?‌ খালি দরকারেই ফোন করে?‌

সন্ধ্যা ৬.‌২২

হাওড়ার টিকিয়াপাড়ার বেলিলিয়াস রোডে আক্রান্ত পুলিশ। লকডাউন ভাঙায় লোকজনকে বোঝাতে গিয়েছিল বাহিনী। তারপরেই রে–রে করে তেড়ে আসে জনতা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে ক্ষিপ্ত জনতা। ব্যাপক ইট–পাটকেল পড়ছে। পুলিশের দুটো গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। শেষপর্যন্ত র‌্যাফ নামাতে হয়েছে।

হাওড়ার ভিডিও–তে একটা সুরেলা গলা শোনা যাচ্ছে, ‘মারেগা, মারেগা, মারেগা।’ অর্থাৎ, এবার পুলিশ পেটাবে রে পেটাবে। বারবার টিভি–তে দেখতে দেখতে ‘মারেগা–মারেগা’টা লুপে চলে গিয়েছে। শুনছি মাঝে মাঝে সনৎ নিজের মনেই আওড়াচ্ছে, ‘মারেগা, মারেগা, মারেগা।’

বেহালার পর্ণশ্রীতেও আজ বাধা পেয়ে পুলিশকে পিটিয়েছে এক বাইকবাজ। তাকে অবশ্য অ্যারেস্ট করা হয়েছে। বাইকও বাজেয়াপ্ত।

সন্ধ্যা ৭.‌০০

প্লাজমা চিকিৎসা করিয়ে দিল্লির এক ব্যক্তি করোনা–মুক্ত হলেও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক এখনই ওই চিকিৎসা গণহারে করাতে রাজি নয়। তাদের মতে, এই পদ্ধতি এখনও ফুলপ্রুফ নয়। এখনও অনেক পরীক্ষা–নিরীক্ষা বাকি আছে।

রাত ৯.‌০৫

আজ আর অর্ণবকে জেরা করতে ডাকেনি পুলিশ। আবার প্রাইম টাইম দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিপাবলিকের বস্‌।

রাত ১০.‌৩৭

শিল্পপতি হর্ষ গোয়েঙ্কা টুইট করেছেন।
প্রত্যেকটা দিন—
একই মানুষ।
একই দৃশ্য বাড়িতে।
একই খাবার।
একই এক্সারসাইজ।
একই টিভি সিরিয়াল আর ফিল্ম।
একই রকম কাজের ফোন আর ওয়েবকল।
দেওয়ালে মাথা ঠুকেও একটা দিনের থেকে আরেকটা দিনকে আলাদা করতে পারছি না!‌

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s