লকডাউন ডায়েরি – ২৬ এপ্রিল, ২০২০

২৬.‌০৪.‌২০২০। রবিবার

সকাল ৭.‌৩০

কাল রাতে ঘুমটা হয়েছে। সম্ভবত মানসিকভাবেও ক্লান্ত ছিলাম। তাই বিছানায় পড়তে না পড়তেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আজ ঠিক সময়ে ঘুমটা ভেঙেও গেল। ঠিকই বলে, সময় সবচেয়ে বড় ক্ষত নিরামক। ঝটকাটা একদিনের মধ্যে কাটিয়ে উঠেছি বলেই মনে হচ্ছে। আপাতত।

অভিজিৎ চৌধুরী ‘দ্য টেলিগ্রাফ’–এ একটা নিবন্ধ লিখেছেন। সকাল সকাল লিঙ্ক পাঠিয়ে দিয়েছেন। লেখাটা বেসিক্যালি করোনা মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী আর রাজনীতিকদের পারস্পরিক ভূমিকা নিয়ে। কয়েকটা লাইন দারুণ লাগল। অভিজি‌ৎ’দা লিখেছেন, বিজ্ঞানীরা চান গবেষণা করে আইডিয়াল সমাধান বার করতে। বিজ্ঞান শুধু নিষ্ঠুরভাবে সত্যটা বোঝে।তার কাউকে ভাল বোধ করানোর দায় নেই। আবার রাজনীতিকরা চান জনপ্রিয় পথে সমস্যার সমাধান করে ফেলতে। দুটো আলাদা আলাদা মুক্তো। দুটো মুক্তো সুচারুভাবে জোড়া দিলে তবেই একটা দামী নেকলেস তৈরি হতে পারে।

লেখার কয়েকটা লাইন ভাল। বেশ ভাল। পড়ে উঠেই ওঁকে জানালাম, এই কথাগুলো লেখা উচিত ছিল। খুব ভাল হল যে, কেউ না কেউ সেটা লিখলেন।

সকাল ৮.০০

রাজ্যে এই প্রথম করোনায় আক্রান্ত হয়ে এক স্বাস্থ্যকর্তার মৃত্যু হল। সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরের কর্তা, চিকিৎসক বিপ্লব দাশগুপ্ত, কাল গভীর রাতে সল্টলেক আমরিতে মারা গিয়েছেন। বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।

সকাল ৮.‌৫১

ডোনাল্ড ট্রাম্প বেদম রেগেছেন আবার। এবার সাংবাদিকদের উপর। পরিষ্কার টুইট করেছেন, হোয়াইট হাউসে রোজ রোজ নিউজ কনফারেন্স করে লাভ কী?‌ যখন মেনস্ট্রিম মিডিয়া শুধু আক্রমণাত্মক প্রশ্ন করে আর তারপর সত্যিটা লেখে না?‌ আমেরিকার মানুষ সত্যি জানতেও পারে না। ফলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সময় নষ্ট করার কোনও মানে হয় না।

সেই টুইটার থ্রেডে একজন লিখেছেন, ‘প্রেস ইজ নট হিজ এনিমি। দ্য ট্রুথ ইজ’। ঠিক লিখেছেন। সত্যই আসল শত্রু। সত্যকে মেনে না নিতে পারলেই সংবাদমাধ্যমকে ভিলেন বানানো হয়। ট্রাম্প কী আশা করেন?‌ তাঁর শাসনাধীন দেশে ৫৪ হাজারের উপর লোকের মৃত্যু হবে অতিমারীতে আর প্রেস তাঁকে রোজ ফুল–বেলপাতা দেবে?‌

বেলা ১১.‌০০

চেতলা গিয়েছিলাম। সবে ফিরলাম। সকাল ৯টায় বেরিয়ে কাজ সেরে আবার বেলা ১১টায় ফিরে আসা। বাবা–মা’র জন্য দুপুরের খাবার তৈরি করার মতো যথেষ্ট টাইম হাতে রেখে। ছবির মতো। তবে এই দু’ঘন্টায় গাড়ি চালাতে চালাতে একাধিক উপলব্ধি হয়েছে—

১। চারদিকে একটা অসহ্য অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। কে গা ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছে, কার গায়ে গা লাগছে, অমুকে মাস্ক ঠিকঠাক পরেছে কিনা, তমুক এখন কোথা থেকে এল ইত্যাদি নিয়ে গভীর সন্দেহ। এসবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করি একা একা গাড়িতে। মনে হয়, গাড়িতেই থেকে যেতে পারলে মন্দ হতো না।

২। সাধারণ মানুষ, যাঁদের আমাদের মতো ভদ্দরলোকেরা সাধারণত হ্যালাছেদ্দা করে থাকি, তাঁরা অনেক বেশি বাস্তববোধ সম্পন্ন এবং সহনীয় হন। যে ভদ্রলোকটি লেখাপড়া করেছেন এবং নিজেকে তথাকথিত শিক্ষিত বলে বড়াই করেন, তিনি অনেক বেশি গেঁড়ে হন এবং পাকামি দেখান। আজ চেতলা বাজারে সেটা মনে হল। কেনার পর যিনি মাছটা ছুলে দিচ্ছিলেন, তিনি আচমকা জানতে চাইলেন, ক’টা বাজে। ৯টা ৫০ বলার পর বললেন, ‘তাহলে তো আর বেশি সময় নেই। সাড়ে ১০টায় পুলিশ এসে বলে যাচ্ছে, ১১টার মধ্যে বাজার খালি করে দিতে।’ বললাম, ঠিকই তো বলছে। উনি বললেন, ‘হ্যাঁ। ঠিকই তো। প্রাণটা আগে দাদা। পরে পেট। প্রাণ থাকলে তো পেট থাকবে।’

৩। সারা পৃথিবীতেই বেড়ালরা কুকুরের চেয়ে অনেক বেশি আত্মম্ভরী এবং আত্মনিমগ্ন হয়। বঙ্কু যেমন আজ আমায় চিনতেই পারল না। নাম ধরে ডাকলাম। ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর এক লাফে কোথায় একটা চলে গেল। অথচ লবঙ্গ কোল থেকে নামতেই চাইছিল না। যখন ওকে জড়িয়ে ধরে আছি, তখন আবার অন্য ঘর থেকে জোড়া বাচ্চা ইনস্টু আর ট্রাইপড আকুলিবিকুলি করছে। কখন গিয়ে ওদের মাথায় হাত বোলাব। এমনকী, যখন বাজারে যাচ্ছি, তখনও বারান্দায় দাঁড়িয়ে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে বাচ্চা দুটো অনবরত কুঁই কুঁই করে ডেকে গেল। এখানেই বঙ্কু আর লবঙ্গদের মধ্যে তফাত।

৪। জীবন কোথাও না কোথাও ছোটখাট ক্ষেত্রেও ব্যালান্স রক্ষা করে। গত কয়েকদিন ধরে গাড়িটা বীভৎস ময়লা হয়ে রয়েছে। ধোওয়া হচ্ছে না। কিন্তু ওঠার সময় তাকালে উঠতেও ইচ্ছে করছিল না। চেতলায় পৌঁছে গাড়ি রাখতে না রাখতেই দেখলাম কোথা থেকে যেন ভোলার উদয় হল। ভোলা আমার গাড়ির ধোপা। এখন যেহেতু গাড়ি দেশান্তরী, ওর কোনও কাজ নেই। আজ অনেকদিন পর ভোলার সঙ্গে ব্যালেনোর দেখা হল। অতএব সানন্দে নিজে থেকেই ভোলা ব্যালেনোকে চান করিয়ে দিল।

৫। প্রকৃতিগতভাবে সবসময় যাবতীয় নেগেটিভিটিকে দূরে ঠেলে সরিয়ে রাখি। একেবারে শাটডাউন করে দিই। অমুক আমার নামে কী কূটকচালি করেছে, তমুকে কী নিন্দা করেছে সেসব কেউ জানাতে এলে বলি, আমার এসব শোনার কোনও প্রয়োজনই নেই। কারণ, প্রথমত, করোনার মতোই ঈর্ষারও কোনও ওষুধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। বস্তুত, করোনার ওষুধ আবিষ্কার হয়ে গেলেও হিংসের ভ্যাকসিন কোনওদিন পাওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, ছোটবেলা থেকে চারপাশের লোক অবিমিশ্র নিন্দেমন্দ করেছে। শুনতে শুনতে অভ্যেস হয়ে গিয়েছে। এমন একটা তুরীয় অবস্থায় পৌঁছেছি যে, কোনওকিছুই আর গায়ে লাগে না। কিন্তু এখন চারদিকে নেগেটিভিটি বিজবিজ করছে। এতটাই যে, শাটডাউনও করা যাচ্ছে না। ফলে এখন নেগেটিভিটিকে হেড–অন নিতে হবে। সরাসরি চোখে চোখ রেখে তাকাতে হবে। এবং জিততে হবে।

৬। চারদিকে যখন এত অ্যাংজাইটি, তখন যদি মনে হয় যে, আমি কেন এত চিত্তচাঞ্চল্য দেখাচ্ছি, আমার তো স্থিতধী থাকা উচিত, তাহলে বুঝতে হবে আমি একটি নিরাপদ রকমের পাগল। ডেলিউশনাল। কারণ, পৃথিবীর এই পরিস্থিতিতে নিজেকে শাহরুখ খান ভাবাটাই পাগলামি। এখন উদ্বেগটাই স্বাভাবিক।

৭। মিমি চক্রবর্তী ঠেকে শিখেছেন। ভোটে দাঁড়িয়ে প্রচারের সময় গ্লাভস পরে হাত মিলিয়ে ব্যাপক ট্রোল্‌ড হয়েছিলেন। সেটা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন। তাই বসিরহাটের এমপি নুসরৎ জাহান যখন নিজের টিকটক ভিডিওতে নেচে ট্রোল্‌ড হচ্ছেন এবং তারপর জেদ করে আরও ভিডিও শেয়ার করছেন, তখন যাদবপুরের এমপি মিমি রাজ্যের প্রথম কোভিড–আক্রান্ত এবং এখন সুস্থ মেয়েটির সঙ্গে ইনস্টা–লাইভ করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমির জন্য ‘ধন্য ধন্য’ পড়েছে।

৮। সবসময় কবিতা লিখে ‘আই লাভ ইউ’ বলার প্রয়োজন হয় না। পরিশ্রম কমাতে বাসন মেজে দিয়েও ‘আই লাভ ইউ’ বলা যায়।

দুপুর ১২.‌৩৫

শুভঙ্করের সঙ্গে কথা হল। বিনোদন চ্যানেলের বড় পদে কর্মরত। আপাতত মুম্বইয়ের ভারসোভার বাড়িতে স্ত্রী–কন্যার সঙ্গে ঘরবন্দি। রোজ সকাল ৮টা থেকে ৯টা আর বিকেলে ৫টা থেকে সাড়ে ৬টা অ্যাপার্টমেন্টের গেটে সবজি, ফল, দুধ, পাউরুটি নিয়ে ম্যাটাডর আসে। মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি ছাড়া অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে বেরোন বারণ। তা–ও আবাসন কমিটির সেক্রেটারির অনুমতি নিয়ে।

শুভঙ্কর বলছিল, ওদের ইন্ডাস্ট্রিটা আগামী একবছরের জন্য ধসে গেল। ঠিকই। সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং বজায় রেখে তো আর শ্যুটিং হতে পারে না!‌ মুম্বই টিভি ইন্ডাস্ট্রিতে আড়াই লাখ লোক কাজ করে। তাদের মধ্যে স্পটবয়, ট্রলিওয়ালা, লাইটওয়ালারাও আছে। যাদের ভাল ভাষায় টেকনিশিয়ান বা কলাকুশলী বলা হয়ে থাকে। তাদের পরিবার–টরিবার মিলিয়ে সংখ্যাটা অন্তত ১০ লাখ। এই লোকগুলোর যা সঞ্চয়, তাতে দু’মাসের বেশি মুম্বইয়ের মতো শহরে বেঁচে থাকতে পারবে না। আর এরা যদি সারভাইভ্যালের তাগিদে গ্রামে চলে যায়, তাহলে তাদের সঙ্গে তাদের অন ফিল্ড ট্রেনিংটাও চলে যাবে। সেই খামতিটা পূরণ করা কঠিন।

তাহলে?‌

শুভঙ্কর বলল, ‘রাস্তা তো একটা বেরোবেই দাদা। যে যতটা দাঁত চেপে পারবে নিজেকে সারভাইভ করাবে। সারা দুনিয়ায় কী হচ্ছে, কীভাবে লোক বেঁচে আছে, সে সম্পর্কে নিজেকে ইনফর্ম করবে। পড়াশোনা করে নিজেদের বাঁচার উপায় বার করতে হবে। কোথায় কোথায় অপরচুনিটি আছে খতিয়ে দেখতে হবে। অনেক মেটিরিয়ালের কস্ট কারেকশন হবে। এত লম্বা স্যাম্পলিংয়ের সুযোগ তো মানুষ আগে পায়নি!‌’

ও–ই বলল, অক্ষয় কুমার–কিয়ারা আদবানি অভিনীত ‘লক্ষ্মী বম্ব’ সম্ভবত বলিউডের প্রথম ‘এ’ গ্রেড ছবি, যা এবার অনলাইনে মুক্তি পাবে। ৮০ কোটি টাকা বাজেটের এই ছবি একটি তামিল ছবির রিমেক। প্রোডিউসার অক্ষয় কুমার আর জিতেন্দ্র–পুত্র তুষার কাপুর। ২০১৯ সালের এপ্রিলে শ্যুটিং শুরু হয়েছিল। ২০২০ সালের ১ মার্চ শ্যুটিং শেষ হয়েছে। ২২ মে রিলিজের কথা ছিল। যা হবে না। কিন্তু অনলাইনে রিলিজ হলে ডেটটা মেনটেন করা যাবে। প্লাস অনলাইনে লোকে এক্সক্লুসিভলি টাকা দিয়ে ঘরে বসে দেখবে। পরিবার নিয়ে আইনক্সে গিয়ে দেখতে ৩,০০০ টাকা খরচ হতো। বাড়িতে হয়তো ৫০০ টাকায় দেখা যাবে নতুন ছবি।

তাহলে কি সিনেমাহল আর থাকবে না?‌

শুভঙ্কর আশাবাদী, ‘থাকবে। ম্যাগনাম ওপাস তখনও লোকে হলে গিয়েই দেখবে। সঞ্জয় লীলা বনশালীর ছবি তো আর ৬ ইঞ্চির মোবাইলে দেখতে ভাল লাগবে না। ফলে সিনেমাহল বেঁচে থাকবে। কিন্তু অনেক ছোট ছবি অনলাইনে রিলিজ হবে। ফলে সেই ছবিগুলো বেঁচে যাবে।’

দুপুর ১.‌১৩

ছাদে গিয়ে দেখলাম পাশের বাড়ির আমগাছের বিশাল দুটো ডাল ভেঙে পড়েছে। তাতে থোকা থোকা অমৃত ঝুলছে। কিছু পাখিতে ঠুকরে নষ্ট করেছে। বাকিগুলো খাস্তা গজার মতো টাটকা তাজা আছে। দেরি না করে বস্তা নিয়ে গিয়ে ভরে ফেললাম। অফিসে নিয়ে যাব। কলিগদের মধ্যে এই আমের প্রবল ডিমান্ড!‌

বিকেল ৪.‌৪৬

অফিসে ঢুকতে না ঢুকতে আমের বস্তা সাফ!‌ সঙ্গে পরবর্তী বরাত। আবার কাল ঝাঁ ঝাঁ রোদে ছাদে উঠতে হবে।

বিকেল ৫.‌০০

রবিবার জনিত ব্যস্ততা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার মধ্যেই ফেসবুকে একটা ভিডিও দেখলাম। যেটা ডায়েরিতে নথিভুক্ত না করে রাখলে পাপ হবে। মেরি কারসেন বলে এক নার্স ভিডিওর কেন্দ্রে। তিনি যখন রোজ ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরেন, সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় প্রতিটা ল্যান্ডিংয়ে অন্য ফ্ল্যাটের লোকজন বেরিয়ে এসে হাততালি দেন। এক শিশু তাঁর হাতে দূর থেকে তুলে দেয় তাঁকে নিয়ে আঁকা পোস্টার। কেউ মেরিকে দেখান, সেই ফ্লোরের ফেল্টবোর্ডে তাঁকে নিয়ে লেখা কবিতা। মাস্ক–পরা মুখে হাসি খেলে যায় মেরির। হাত থেকে গ্লাভস খুলে মুছে নেন আনন্দাশ্রু।

এই ভিডিও কোন দেশের জানা নেই। কিন্তু মেরি হলেন সারা পৃথিবীর কোটি কোটি করোনা যোদ্ধার প্রতীক। তাঁকে, তাঁদের আভূমি নত হয়ে কুর্নিশ।

বিকেল ৫.‌২৩

কাল সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স। ৩ মে লকডাউন তোলা বা না–তোলা নিয়েই মতামত নেবেন নিশ্চয়ই। জানতে পারছি, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের কাছে বকেয়া টাকার দাবি জানাবেন আবার। ঘটনাচক্রে, আজ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আম্ততুষ্টির কোনও জায়গা নেই। সতর্কতা তুলে নিলে বিপদ ঘটবে।’ অর্থাৎ, লকডাউন জারি থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত তেমনই। দেশ জুড়ে সার্বিক লকডাউন থাকবে কী?‌ প্রশ্ন সেটাই। না থাকলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি থাকবে ‘রেড’ এবং ‘অরেঞ্জ’ জোনে। ‘গ্রিন’ জোনে হয়তো কিছু ছাড় থাকবে।

সন্ধ্যা ৭.‌২৪

করোনা–মুক্ত হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবৃতি দিয়েছেন গায়িকা কণিকা কাপুর। সেখানে তিনি বলেছেন, লন্ডন থেকে মুম্বই আসার পর তাঁকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়নি। মুম্বই থেকে লখনউ যাওয়ার সময়েও তাঁর কোনও সিম্পটম ছিল না। লখনউয়ে তিনি কয়েকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। কিন্তু নিজে কোনও পার্টি দেননি বা কোনও অনুষ্ঠানের আয়োজনও করেননি। পরে পরপর তিনটি টেস্টে কণিকার রক্তে কোভিড সংক্রমণ পাওয়া যায়। তারপর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনটি টেস্টে নেগেটিভ রেজাল্ট আসার পর তাঁকে ছাড়া হয়েছে। মনে পড়ছে, তখন কেউ একজন টুইট করেছিলেন, ‘ঋষভ পন্থের টেস্টের চেয়ে কণিকা কাপুরের টেস্টের সংখ্যা বেশি’।

আপাতত বাবা–মায়ের সঙ্গে লখনউয়ে আছেন কণিকা। আর লিখেছেন, ‘কারও সম্পর্কে নেতিবাচক ধারনা কখনও বাস্তবটা বদলে দিতে পারে না’।

সন্ধ্যা ৭.‌২৯

অর্ণবের বিবৃতি টেক্সট করল সাম্যব্রতা। তাতে দেখছি, সনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে মন্তব্য নিয়ে কাল সকালে অর্ণবকে জেরা করবে মুম্বই পুলিশ। বিবৃতিতে অর্ণব বলেছে, গত ১২ ঘন্টায় ওকে দু’বার নোটিস দিয়েছে পুলিশ। দেশের এক নাগরিক হিসেবে কাল সকালে ও পুলিশের মুখোমুখি হবে। বলেছিলাম না, পিকচার আভি বাকি হ্যায়।

আজ অক্ষয় তৃতীয়া ছিল। দিনটা নিঃশব্দে চলে গেল। এই দিনটাতেও হালখাতা হত। ব্যবসায়ীরা লক্ষ্মী–গণেশের পুজো করতেন। পুরীতে রথযাত্রার প্রস্তুতি শুরু হত। এখন কী হয় জানি না। কিন্তু বহুদিন আগে এই দিনটায় দোকানে দোকানে মিষ্টির বাক্স পাওয়া যেত। তাতে একটা দুর্দান্ত ক্ষীরের গজা থাকত।

রাত ৮.‌০০

সাংবাদিক, চিত্র সাংবাদিকদের জন্য করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করছে কলকাতা প্রেস ক্লাব। সাধারণভাবে সমস্ত সাংবাদিকরাই এর আওতাধীন। তবে করোনা কভারেজে যে রিপোর্টার, ফটোগ্রাফাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে রিপোর্ট আর ছবি সংগ্রহ করছেন, তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে প্রতিদিন বেলা ১১টায় ১৫ জনের সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করা হবে। এটা একটা অসাধারণ সিদ্ধান্ত। বন্ধু কিংশুক প্রেস ক্লাবের সম্পাদক। অগ্রজ স্নেহাশিস’দা সভাপতি। এই সঙ্কটসময়ে অসামান্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অ্যাম রিয়েলি প্রাউড অফ দেম!‌

রাত ৯.‌৪০

প্লাজমা থেরাপিতে দেশের প্রথম এক করোনা রোগী সুস্থ হলেন। দিল্লিতে। সাতদিন আগেও ৪৯ বছরের রোগী ভেন্টিলেশনে ছিলেন। এটা একটা ভাল খবর তো বটেই।

রাত ১০.‌২৫

পুরোন পাড়ার গ্রুপে মিঠু দুটো লাইন পোস্ট করেছে: ‌বাংলায় লকডাউন হল লুঙ্গির মতো। উপরে গিঁট বাঁধা। নিচে পুরোটাই ফাঁকা।

2 thoughts on “লকডাউন ডায়েরি – ২৬ এপ্রিল, ২০২০

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s