লকডাউন ডায়েরি – ১৯ এপ্রিল, ২০২০

১৯.‌০৪.‌২০২০। রবিবার

সকাল ৭.‌৩৬

কাল রাতে ফেসবুক আর ব্লগে ‘লকডাউন ডায়েরি’ আপলোড করতে না করতেই পল্লবী টকাস করে ওয়ালে এসে লিখলেন, ‘এটা আমার ছবি।’

জানতামও না। বহুদিন আগে এই সাদা–কালোয় তোলা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অসামান্য ছবিটা আরও কিছু কলকাতার সিগনেচার ছবির সঙ্গেই আমায় কে একটা যেন পাঠিয়েছিল। এত অসাধারণ লেগেছিল যে, স্টোর করে রেখেছিলাম। আচমকাই মনে হল, ‘লকডাউন ডায়েরি’তে ব্যবহার করি। ইন ফ্যাক্ট, গত ৫ এপ্রিলের ‘লকডাউন ডায়েরি’তেও একটা ভিক্টোরিয়ার ছবিই ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দৃঢ় বিশ্বাস, সেটাও পল্লবীরই তোলা।

এই অবসরে অতএব পল্লবীকে কৃতজ্ঞতা জানানো রইল। ‘লকডাউন ডায়েরি’ যদি কোনওদিন বই হয়ে বেরোয়, তাহলে সেখানেও পল্লবীর প্রতি অন রেকর্ড কৃতজ্ঞতা থাকবে। এখানে আরও বলা থাক, পল্লবীকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। কিন্তু উনি যে মানের ছবি তোলেন, তা অনেক আচ্ছা–আচ্ছা পেশাদার ফটোগ্রাফার তুলতে পারবে না। কারণ, পল্লবীর দেখার চোখ আছে। তীক্ষ্ণ চোখ। আর আছে ফ্রেম বোঝার মতো মেধা। পল্লবীর ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া একটা সোফায় পাশাপাশি বসা তিনটে বেড়ালছানার ছবি এখনও আমার ফোনের ওয়ালপেপার। বলা প্রয়োজন, সেই ছবিও পল্লবীকে না বলেই নেওয়া।

সকাল ৮.‌০৪

অ্যান্টিবায়োটিক শুরু হয়েছে। আবার। কিন্তু গলাব্যথাটা আছে। এখনও ঢোক গিলতে প্রবল কষ্ট। এ যে কী জ্বালায় পড়লাম!‌ যতদিন না লকডাউন উঠছে, এর কোনও হিল্লে হবে বলে তো মনে হয় না।

কাল রাতে একটা কোভিড–ভয় পেয়েছিলাম। অফিসে কাজ করতে করতেই একটা শুকনো কাশি শুরু হল খুকখুক করে। এমনিতে এর চেয়ে অনেক বেশি কাশি আমার সারাবছর থাকে। যাকে গৌরবার্থে স্মোকার্স কাফ বলে থাকি। কিন্তু এ তো সেই সময় নয়। হঠাৎ কাশি শুরু হল কেন?‌ সকালে বেলগাছিয়া গিয়েছিলাম। তখন কোনও ইনফেকশন হয়নি তো?‌ তার সঙ্গেই ভয়ঙ্কর গলাব্যথা। এছাড়া কোথাও কোনও সমস্যা নেই। জ্বর নেই। সর্দি নেই। শ্বাসকষ্টও নেই। কিন্তু আমার ভয় করতে শুরু করল। প্রবল ভয়। মনে হল, এত সাবধানতা নেওয়া সত্ত্বেও বোধহয় কোনও না কোনওভাবে ইনফেক্টেড হয়ে গিয়েছি।

যেই না মনে হওয়া, অমনি তার পরের ধাপগুলো মনে হতে শুরু করল— আমার হলে তো নির্ঘাত বাবা–মা’র হবে। বাবা–মা’কে নিয়ে কী করব?‌ কোন কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হবে তাঁদের?‌ নিজেই বা কোন হাসপাতালে ভর্তি হব?‌ সেখানে কী রকম চিকিৎসা হবে?‌ বাচ্চাগুলোর কী হবে?‌ অফিসে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকবে। ইত্যাদি ভয়ঙ্কর সব ডিপ্রেসিং ভাবনা। আই ওয়াজ শিট স্কেয়ার্ড!‌

বাড়ি ফিরে এসে অবশ্য আর কিছু হয়নি। মনে হল, গলাব্যথার চোটে ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়ায় জল খাওয়া খুব কম হচ্ছে। তাই গলাটা ড্রাই হয়ে গিয়েছে। সেই থেকেই ওই শুকনো কাশিটা হচ্ছিল। সারা রাত আর একবারও কাশি হয়নি। এখনও হচ্ছে না। বাঁচা গেল!‌

সকাল ৯.‌০৫

স্বপ্নটা দেখলাম অ্যাজ ইফ ফেসবুকে কোনও ভিডিও দেখছি। চৌকো একটা আয়তাকার ফ্রেম। মনে হচ্ছিল, ঠিক যেন মোবাইলের স্ক্রিন। দূর থেকে একটা পাহাড়প্রমাণ ঢেউ গড়িয়ে গড়িয়ে আসছে। একটাই বিশাল চওড়া ঢেউ। সারা স্ক্রিন জুড়ে। রং সাদা। আর তার মাথার প্রতিটা ফেনা ছবিতে দেখা করোনাভাইরাসের মতো। সেগুলো নিয়ে ঢেউটা গড়িয়ে গড়িয়ে সামনে আসছে। ননস্টপ। ফ্রেমের এদিকে আমি দাঁড়িয়ে। ছোট্ট একটা আমি। ওই ঢেউটার কাছে একটা ইঁদুরের মতো। আমার পরনে একটা সাদা টি–শার্ট আর ব্রাউন রংয়ের একটা কেপ্রি। দু’হাত মাথার উপর তোলা। আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে। নাকি থামতে বলার জন্য?‌

আমার আর ঢেউটার মাঝখানে একটা ঝুলন্ত ব্রিজ। লছমনঝোলার ব্রিজটার মতো। ব্রিজটা একটা খুব সরু সুতোয় ঝুলছে। প্রায় ছিঁড়ে পড়ে–পড়ে। করোনাভাইরাসের ঢেউটা ওই ব্রিজ পেরিয়েই এদিকে আমার কাছে পৌঁছবে। আমি প্রাণপণ চাইছি, ঢেউটা ওপারে ব্রিজের পাদদেশে পৌঁছনোর আগেই যাতে পলকা সুতোটা ছিঁড়ে ব্রিজেটা নীচে পড়ে যায়। নইলে আমি ওই ভাইরাসের ঢেউয়ে লাট খেতে খেতে হারিয়ে যাব!‌ আমাকে কেউ আর কখনও খুঁজে পাবে না।

ঢেউটা যখন ক্রমশ এগিয়ে আসছে, তখনই ঘুমটা ভেঙে গেল। ধড়মড়িয়ে উঠে বুঝলাম, স্বপ্নটা আসলে কালকের ভয় থেকে সঞ্জাত। ওই যে ভেবে নিয়েছিলাম, আমি করোনায় ইনফেক্টেড হয়ে গিয়েছি!‌

সকাল ৯.‌৩৫

মন্দিরা বেদির একটা ২৮ মিনিটের ওয়ার্কআউট ভিডিও দেখলাম। দেখে খারাপই লাগল নিজের কথা ভেবে। কতদিন হল ব্যাডমিন্টন খেলা হয় না। আবার কবে হবে, তা–ই বা কে জানে!‌ গাড়ির ডিকিতে পড়ে আছে লোনলি কিটব্যাগ। কোনওদিন কি আর বেরোবে বেচারা ওই অন্ধকূপ থেকে?‌

বেলা থাকতে থাকতে এখানে একটা কথা লিখে রাখি। আমি মন্দিরার ফ্যান। মহিলার ৪৮ বছর বয়স। কিন্তু নিয়মিত ওয়ার্ক আউট করে করে চেহারাটা যা বানিয়েছেন, একেবারে চুমচুমে। দেখলে হিংসে হয়। এই ভিডিওটাতেও কনস্ট্যান্ট কথা বলতে বলতে ওয়ার্ক আউট করে গেলেন। খুব বেসিক জিনিসপত্র— স্কোয়াট, লাঞ্জ, জাম্পিং জ্যাক, এয়ার ওয়াক ইত্যাদি। ১৫ মিনিট একটানা। মাঝে একটা ২ মিনিটের ওয়াটার ব্রেক। তারপর আবার ১৫ মিনিট একটানা। একই সেট। বাড়িতে যে কোনওদিন করা যায়। দাঁতের ব্যাপারটা একটু সামলে নিয়ে শুরু করব। ওয়ার্ক আউট করলে একটা ইমিউনিটিও তৈরি হয়। যেটা ইদানীং আমার খুব কমেছে বলে নিজেরই সন্দেহ হচ্ছে।

বেলা ১১.১৮

টিভি বলছে, কেরল সরকার আজ থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রেস্টুরেন্ট ডাইনিং চালু করছে। শাবাশ!‌ কেরল যেভাবে করোনার মোকাবিলা করেছে, সেটা নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসও স্টোরি করেছে। ‌অভিজ্ঞরা বলছেন, গাদা গাদা টেস্ট করানোর ফলেই এই সাফল্য। ধরা পড়েছে অনেকের শরীরেই। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেরলে মৃত্যু হয়েছে মাত্র তিনজনের। লোকে বলছে, এ সবই র‌্যান্ডম টেস্টের ফল।

ওহ্‌, আরও একটা টেস্ট নেগেটিভ এলেই নাকি করোনা–মুক্ত গ্রিন জোন হয়ে যাবে গোয়া।

বেলা ১১.‌৩৩

রাজ্য সরকার র‌্যাপিড এবং পুল টেস্ট চালু করছে। এটা ভাল খবর। পুল টেস্টে পাঁচজনের সোয়াব নিয়ে একটা কিটেই সকলের টেস্ট করা হবে। কারও পাওয়া না গেলে সকলে ক্লিয়ার। পাওয়া গেলে আবার টেস্ট। এতে সময় এবং কিট— দুই’ই বাঁচবে। দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নাকি এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার এটাও নির্দেশ দিয়েছে যে, ডাক্তার, নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা টানা সাতদিন ডিউটি করার পড় টানা সাত দিন ছুটি পাবেন।

দুপুর ৩‌.‌৪০

হাওড়ার অবস্থা যে ভাল নয়, সেটা তো মুখ্যমন্ত্রীই বলেছেন। বিপ্লব হাওড়ায় থাকে। ও বলছিল, অফিসে আসার পথে দেখেছে হুটার বাজাতে বাজাতে অ্যাম্বুল্যান্স যাচ্ছে রোগী নিয়ে। সকলের মুখে মাস্ক। দেখেই কেমন যেন একটা লাগছে। বিপ্লব এমনিতে খুবই ডাকাবুকো। কিন্তু এবার ও ভয় পেয়েছে। ভয় এবার আমারও লাগছে।

দুপুর ৩.‌৪৫

মাস্ক না পরায় গতকাল শ্যামপুকুরে প্রতিবন্ধী পুত্রকে গলা টিপে খুন করেছেন এক প্রৌঢ়। তারপর নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। ওঁর স্ত্রী গত ১৫ বছর ধরে পক্ষাঘাতে শয্যাশায়ী। ছেলের বয়স ৪৫। খবরটা টিভি–তে দেখাচ্ছিল আর প্রৌঢ়ের এক প্রতিবেশি বলছিলেন, ‘ও ছেলেকে এত ভালবাসত যে, আর কোনও সন্তান নেয়নি। আসলে পেনশন তুলতে পারেনি। ঘরে শয্যাশায়ী স্ত্রী। ছেলে মাস্ক না পরে বাইরে চলে যাওয়ায় চিন্তায় ওর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তাই কাজটা করে ফেলেছে। কিন্তু ও ছেলেকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালবাসত।’

প্রিজন ভ্যানে ওঠার আগে প্রৌঢ় আইনজীবীর মারফত আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে চান।

খবরটা টিভি–তে চলছিল। বিপ্লবও দেখছিল আমার সঙ্গে বসে। দেখলাম, চশমা খুলে মাস্কের ওপর দিয়ে চোখের জল মুছছে। এ জীবন বড় অদ্ভুত। কখন যে কার কোন তন্ত্রীতে আঘাত লাগে আর বিপন্নতার সুর বেজে ওঠে কে জানে!‌

সন্ধ্যা ৭.‌২৯

রবিবারটা খুব হুড়োতাড়ায় যায়। কাগজ বানাতে বানাতেই এসে ডায়েরি লিখে যেতে হয়। যেমন এখন লিখছি যে, ৩ মে–র পর থেকে ডোমেস্টিক ফ্লাইট চালু হওয়ার ব্যাপারে এখনও কোনও নিশ্চয়তা নেই। রাজনাথ সিংয়ের বাড়িতে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের একটা মিটিং হয়েছে। সেখানে অনেকেই বলেছেন, ৪ মে থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে একধাক্কায় সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। তাই এয়ার ইন্ডিয়া–সহ অন্যান্য কেরিয়ারকে বুকিং শুরুর বিষয়ে এখনই ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। দিলেও আরও ভেবেচিন্তে। ফলে যাঁরা প্লেনে চড়বেন বলে লাফিয়ে পড়ে বাক্স–প্যাঁটরা গোছাতে শুরু করেছিলেন, তাঁদের গুড়ে বালি বলেই মনে হচ্ছে। তবে এখনও বেশ কিছুদিন বাকি আছে। দেখা যাক।

সন্ধ্যা ৭.‌৩৩

কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দিয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। তিনি লিখেছেন, গতকাল রেড রোডে প্রতীকি বিক্ষোভের পর অ্যারেস্ট করার সময় অশীতিপর নেতা বিমান বসুকে অসভ্যের মতো ধাক্কা মেরেছেন এক পুলিশ অফিসার। সেই অফিসারের বিরুদ্ধে যেন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। চিঠির শেষ লাইন, ‘আশা করব আপনি বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। যাতে আমাদের অন্য কোনও অ্যাকশন না নিতে হয়।’

এই ‘অন্য অ্যাকশন’ নিয়ে কৌতূহল রহিয়া গেল।

রাত ৮.‌১৫

করোনাভাইরাসের যে কুৎসিত ছবি সর্বত্র বেরোচ্ছে, ওটা কোথা থেকে এল?‌ ওইরকমই কি দেখতে জীবাণুটাকে?‌ অফিসে খোঁজ নিয়ে জানলাম, চিনে যখন প্রাদুর্ভাব হয়েছিল, তখন নাকি প্রথম এই ছবিটা বাজারে এসেছিল। তারপর থেকে এটাই চলছে। এমনিতে ইস্কুলের জীবনবিজ্ঞান বইয়ের ধূসর অভিজ্ঞতা বলছে, ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস দেখতে খারাপই হয়। কিন্তু করোনাটা যেন আরও বেশি হিংস্র দেখতে। সেটা কি এর ধ্বংস করার ক্ষমতার জন্য?‌ নাকি এমনি এমনিই এমন কুদর্শন করে বাজারে ছাড়া হয়েছে?‌ বীভৎসতাটা আরও জাহির করতে।

রাত ৯.‌৪৮

আজ এটাই শেষ এন্ট্রি ডায়েরিতে। কাল ২০ তারিখ। কিছু কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়ার দিন। সারা দেশে এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত ১৬ হাজার প্লাস। মৃত ৫১৯ জন। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তবে শুনতে শকুনের মতো লাগলেও এটা এখানে লেখা থাক যে, ভবিষ্যতে কী হবে জানি না। কিন্তু আমাদের মতো ১৩০ কোটির দেশে অতিমারীতে এখনও পর্যন্ত মৃতের এই সংখ্যা চিন্তাদায়ক নয়।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ দেখলাম টুইট করেছেন, কাল থেকে তুলনায় কম সংক্রমিত বা সংক্রমণমুক্ত এলাকায় কোন কোন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। আয়ূষ–সহ স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি এবং হর্টিকালচার, মৎস্যজীবিকা, চা–কফি–রবার চাষ, প্রাণিসম্পদবিকাশ, ব্যাঙ্ক–সহ আর্থিক ক্ষেত্র, সোশ্যাল সেক্টর, মনরেগা, পাবলিক ইউটিলিটি, কার্গো মুভমেন্ট এবং অনলাইনে শিক্ষাদান।

সবই তো হল। কিন্তু ওই পুত্রহন্তা প্রৌঢ়ের আকুতিটা এখনও ভুলতে পারছি না।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s