লকডাউন ডায়েরি – ১১ এপ্রিল, ২০২০

‌১১.‌০৪.‌২০২০। শনিবার

সকাল ৮.‌‌৩০

গতকাল যা লিখেছিলাম— বিশ্বে মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে গেল। এই লাইনটা লিখেই মনে হল, ১ লাখ সংখ্যাটা কত সহজে লিখলাম। অথচ যে প্রসঙ্গে সংখ্যাটা লিখছি, সেটা আসলে লাশ গোনার সূচক। মানুষের লাশ। সারা পৃথিবীতে আক্রান্ত এখনও পর্যন্ত ১৭ লাখ। তাঁরাও মানুষ। আমার মতো মানুষ।

সকাল ৮.‌৪৬

কাল বেশি রাতে ফেসবুকে সৌরভের পোস্ট পড়লাম। এ সৌরভ গাঙ্গুলি নন। কিন্তু গাঙ্গুলির চেয়ে কম ডাকাবুকো নন। এই সৌরভ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে লকডাউনের সময় শহরের বয়স্ক মানুষদের জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের ফোন নম্বরে দিনে কয়েক হাজার করে মদের হোম ডেলিভারির আর্জি আসছিল। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা সরে এসেছিলেন। বেশ করেছিলেন!‌

কিন্তু কাল রাতের পোস্ট বলছে, সৌরভরা আবার তাঁদের কাজ শুরু করেছেন। বেশ করেছেন!

ফেসবুকে ‌একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও পোস্ট করে সৌরভ লিখেছেন, ‘গত ২৩ মার্চ থেকে চেনা–অচেনা কয়েকজন মিলে বেশ খানিকটা পথ অতিক্রম করেছি আমরা— কোভিড ১৯ মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি টিম, কলকাতার স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা। শুরুর দিকটা মসৃণ হলেও কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় অযাচিত অথচ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কিছু ঝঞ্ঝাট। কখনও পাশ কাটিয়ে, কখনও মাথা বাঁচিয়ে এগোনর পথটা মসৃণ ছিল না। থমকেছি। তবু থামিনি। থামব না।

‘না, আমাদের কোনও সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান নেই। হঠাৎ মিলে যাওয়া কিছু মননশীলতা আর এগিয়ে চলার শপথ নিয়ে যে পথচলা শুরু করেছিলাম, তা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি আমরা এই ভিডিওটার মধ্যে। দেখবেন সময় করে। আর শহরের একাকী বৃদ্ধ–বয়স্ক মানুষগুলির কাছে আমাদের নম্বর পৌঁছে দেবেন পারলে। যতদিন লকডাউন চলবে, ততদিন আমরা বদ্ধপরিকর তাঁদের প্রয়োজনীয় ওষুধ তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দিতে। শহরের যে কোনও প্রান্তে।

‘ফোন নয়। নীচের যে কোনও নম্বরে একটা মেসেজ করলেই আমরা পৌঁছে যাব। কথা দিলাম।

‌৯৮৩৬৮–৭০৪৫৬, ৬২৯০০–৬৮৩৬৪

কালকেই সৌরভের ভিডিওটার নীচে লিখেছিলাম, স্যালুট!‌ আজ এই ডায়েরিতে লিখছি, সাবাশ সৌরভ!‌ আপনারা যা করছেন, তার মূল্য আমি বুঝি, যার লকডাউনের দিনরাত কাটে এক নব্বই অতিক্রান্ত বৃদ্ধ এবং আশি–পেরোন বৃদ্ধাকে নিয়ে। এগিয়ে যান। একেই বলে না–থামার দাদাগিরি।

একটু আগে ক্যালকাটা টেলিভিশন নেটওয়ার্কে দেখছিলাম, কত সাধারণস্য সাধারণ মানুষ নিজেদের সাধ্যমতো মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে দান করছেন। এত ভাল লাগল দেখে যে কী বলব!‌ মনে হল, এঁরাও তো আমাদের সমাজেই আছেন। ভাগ্যিস আছেন!‌

সৌরভ আর ওই মানুষগুলোর কথা ভাবতে ভাবতে মনে হল, বিপর্যয় আসলে নিজস্ব হিরো খুঁজে নেয়। হিরো তৈরিও করে। সৌরভের মতো আপাত–সাধারণ মানুষরা বিপর্যয়–দুর্যোগের দিনে মানসিক উচ্চতার বশে আকাশ ছুঁয়ে ফেলেন। দেখে অবাক লাগে। ভালও লাগে। আর মনে হয়, ঝড় থেমে গেলে একদিন এই মানুষগুলোকে স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে এক মঞ্চে ডেকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া যায় না?‌

সকাল ৯.‌৩৩

ব্যাঙ্ককের হাসপাতালে দু’টি সদ্যোজাত শিশুর মুখে ট্রান্সপারেন্ট প্রোটেক্টর পরানো ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। বাইক চালানোর হেলমেটের ভাইজারের মতো ঢালের আড়ালে পুঁচকে দুটো মুখ। ঘুমোচ্ছে। জানেও না, কোন পৃথিবীতে এসে পড়েছে। কী দিন এল!‌

বেলা ১১.‌০০

মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স শুরু হল। মন দিয়ে দেখতে শুরু করেছিলাম বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ফেসবুক লাইভে। কিন্তু কিছু পরেই ভোঁ–ভাঁ। কেস কী?‌

টিভি বলছে, রাজ্যের ৯–১০টা এলাকাকে ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে আগামী ১৪ দিন পুরোপুরি লকডাউন চলবে। আসলে লকডাউনের বাবা— শাটডাউন!‌ ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। কেউ কোনওভাবেই বাড়ি থেকে বেরোতে পারবেন না। দোকান বাজার, রাস্তাঘাট সব বন্ধ। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার পুলিশের কন্ট্রোলরুমে ফোন করে জানাতে হবে। সিভিক ভলান্টিয়ার বা পুলিশ বাড়িতে জিনিস পৌঁছে দেবে। বিস্তারিত কিছু বলা হচ্ছে না। কিন্তু বৃত্তর জেলাগুলোর নাম দেখে মনে হচ্ছে, যে সমস্ত এলাকা থেকে করোনা–আক্রান্তের হদিশ মিলেছে বা মৃত্যু হয়েছে, মূলত সেসব এলাকা। সল্টলেকের কিছু এলাকাও তার মধ্যে রয়েছে। ঘটনাচক্রে, তার মধ্যে এইচবি ব্লক নেই।

রেকর্ডের খাতিরে লেখা থাক, ওই তালিকায় কলকাতার মধ্যে আছে আলিপুর, পন্ডিতিয়া রোড, মুদিয়ালি, ভবানীপুর, বড়বাজার। এছাড়া দক্ষিণ শহরতলির নয়াবাদ, উত্তর ২৪ পরগনার বেলঘরিয়া, দমদম (‌আংশিক)‌, হাওড়ার শিবপুর, নদিয়ার তেহট্ট, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা, পুরো হলদিয়া এবং পুরো কালিম্পং।

বেলা ১১.‌৩৯

টিভি–তে আবার ভিডিও কনফারেন্সটা ফিরে এসেছিল। মন দিয়ে একটু দেখতে না দেখতেই আবার হাওয়া। তবে এটা সম্ভবত লোকাল গোলমাল। দেখা যাক, কখন তাঁরা আবার ফিরে আসেন। আজ এখন অনেক কাজ। রান্না করা। পরপর সব বোতলে জল ভরা। ঘর ঝাঁট দেওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি এবং ইত্যাদি।

বেলা ১১.৪৫

ছেলেবেলার বন্ধু বাপি আর মিঠুকে ফোন করেছিলাম। ব্যাঙ্গালোর থেকে বাপ্পাও হোয়াট্‌সঅ্যাপে যোগাযোগ করল। ওদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছোটবেলার দিনগুলো স্লাইডের মতো চোখের সামনে সরে সরে যাচ্ছিল। মূলত খেলার দৃশ্য। আমরা একসঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি ক্রিকেট খেলতাম। তখন ভেবেছিলাম, ক্রিকেট খেলে জীবনে বড় হব। তবে ক্রিকেটেরও আগে শুরু হয়েছিল ‘পিট্টু’। কেউ কেউ ‘সাতচারা’ও বলত। ৭টা চ্যাপ্টা ইটের টুকরো মাথায়–মাথায় বসিয়ে ফুটদশেক ‌দূর থেকে ক্যাম্বিস বল ছুড়ে একটা টিমের সব মেম্বারকে এক এক করে সেটা ভাঙার চেষ্টা করতে হবে। একেকজনের তিনটে করে চান্স। না পারলে ওয়ান ড্রপে কট আউট। কেউ না ভাঙতে পারলে অন্য টিম চেষ্টা করবে। যদি একটা টিম ভেঙে ফেলে, তাহলে তারাই আবার ওটাকে সাজিয়ে তুলবে। মিনটাইম, অপোনেন্ট টিম বল ছুড়ে পিট্টু গড়তে–থাকা টিমের লোকদের গায়ে মারার চেষ্টা করবে। গায়ে লাগলেই আউট। আর যদি গায়ে বল না খেয়ে পিট্টু গড়ে ফেলা যায় তাহলে যারা ভেঙেছিল তারা জিতবে।

এসব খেলা কি কেউ খেলে এখন?‌ কিম্বা মার্বেল বা গুলি?‌ পিট্টুটা চুটিয়ে খেললেও গুলি খেলিনি। পারতাম না। ঘুড়িও ওড়াতে পারতাম না। ঘুড়িটা মরসুমি ছিল। কিন্তু গুলি খেলাটা পাড়ায় এমন নেশার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, বেপাড়ার ছেলেরাও খেলতে চলে আসত। ঘরে ঘরে চিন্তা— পড়াশোনা ফেলে রেখে ছেলেগুলো সব গুলি খেলে দিন কাটাচ্ছে!‌ ‌বড়রা ময়দানে নামতে বাধ্য হল। পালের গোদাদের কিছু চড়চাপাটি মারতে মার্বেল শিল্প লাটে উঠল। শিল্পীরাও সুবোধ বালকের মতো আবার যার যার ঘরে ফিরে গেল।

দুপুর ১২.‌২২

অনেকদিন পর আজ দেবব্রত বিশ্বাস চালালাম। আর মেলট্রেনের মতো এসে সবেগে ধাক্কা মারল ছোটবেলা। বড়মামুর আনা ইপি রেকর্ডে প্রথম শোনা লোকটাকে। কেমন দেখতে, তা–ও জানতাম না। কিন্তু ভরাট, রাজকীয় গলাটা মাদকের মতো টানত যখন ভেসে আসত, ‘আমার যে দিন ভেসে গেছে, চোখের জলে..‌।’

ওপরের ড্রয়িংরুম ঝাঁট দিতে গিয়ে কিছু পাখির পালক পেলাম। ছোট ছোট। সম্ভবত চড়ুইয়ের। কিন্তু পালকের মালিকদের কোথাও খুঁজে পেলাম না। কোথা দিয়ে ঢুকল?‌ কী করেই বা ঢুকল?‌ আর গেলই বা কোথায়?‌ হাওয়ায় কি জানালা–টানালা খুলে গিয়েছিল?‌ একইভাবে কিচেনে খুঁজে পেলাম না একটা জলের বোতলের ছিপি। কোথায় যে গেল!‌ খোলা জানালা দিয়ে পালিয়ে গেল না তো!‌

দুপুর ১২.‌৪৫

কেউ একজন গতকাল থেকে বাড়ির ল্যান্ডলাইনে ক্রমাগত ফোন করছেন। মায়ের কাছে মোবাইল নম্বর চাইছেন এবং পাচ্ছেন না। আজ সকালেও একবার করেছেন। রান্না করতে ব্যস্ত থাকায় ধরতে পারিনি। বলেছিলাম, ১০ মিনিট পরে করতে। করলেন একটু আগে। কথা হল। হাওড়ার বালি থেকে এক যুবক। খানিকটা অ্যাপ্রিহেনশন নিয়েই ফোন ধরেছিলাম। বললেন, ব্লগটা পড়ে খুব ভাল লাগছে। মোবাইল নম্বর না পেয়ে গুগ্‌ল ড্রাইভ থেকে এই ল্যান্ডলাইন নম্বর বার করে ফোন করেছেন সেটুকুই বলতে। কী কাণ্ড!‌ বললেন, ‘লকডাউন ডায়েরি’ নিয়মিত পড়েন। আগে ‘ইতি অনিন্দ্য’ও পড়তেন। সেটাই ফোন করে জানাতে চেয়েছিলেন শুধু। বললাম, লেখাটা তো আমার চাকরি। আমি সেজন্য বেতন পাই। ধন্যবাদ দিলাম তাঁকে। সঙ্গে একটু অনভ্যস্ততা আর অপ্রতিভতার ছোঁয়াও লেপ্টে রইল।

বেলা ২.‌০৭

একটা হিলেরিয়াস ফোন–কথোপকথন শুনলাম। সেটা লিখছি বটে। আসলে না লিখে পারছি না। কিন্তু কুশীলবের নাম লিখছি না। তাতে অবশ্য রস ক্ষুন্ন হবে না। এক বন্ধু (‌ধরা যাক তার নাম ‘ব’)‌ লকডাউনে বাড়িতে আটকে পড়ে অন্য বন্ধুকে (‌ধরে নিই তার নাম ‘অ’)‌ ফোন করছে। কারণ, একই অ্যাপার্টমেন্টে, অ–এর ফ্ল্যাটের ঠিক উপরে ব–এর ফ্ল্যাট। যা মূলত পার্টি করা ছাড়া লকডাউনে থাকে।
ব:‌ শোন্‌, একটা উপকার করবি?‌ সিকিউরিটির থেকে চাবিটা নিয়ে আমার ফ্ল্যাটে গিয়ে প্লিজ মদের বোতলগুলোয় কিছু পড়ে আছে কিনা দেখবি?‌ তাহলে আজ বিকেলে যে করে হোক গিয়ে নিয়ে আসব।
অ:‌ ঠিক আছে। (‌কিছু পরে হাসতে হাসতে)‌ শোন্‌, দেখেছি। কিছু থুতু পড়ে আছে।
ব:‌ (‌মরিয়া গলায়)‌ ক’জনের থুতু?‌
অ:‌ ওল্ড মংকের বোতলে চার ড্রপ। টিচার্স তিন ড্রপ। এক বোতল ব্রিজার। আর বাকার্ডি আছে অল্প। ভদকাও আছে কয়েক ড্রপ।
ব:‌ (‌উল্লসিত)‌ বাকার্ডি আছে?‌
অ:‌ আছে।
ব:‌ ব্যস, ব্যস। ওতেই হবে। আসছি তাহলে বিকেলে।

দুপুর ২.‌২৮

গতকাল অর্ণবের পাঠানো ফিটনেস অ্যাপ এবং সোফায় সযত্নে গুটিয়ে–রাখা যোগা ম্যাটের কাছে করজোড়ে মার্জনা চেয়ে অফিসে রওনা হচ্ছি।

দুপুর ৩.‌৩০

প্রবল দাঁতব্যথা নিয়ে সনৎ অফিসে এসেছে। ওকে বিনাদ্বিধায় পেনকিলার–সহ আমার প্রেসক্রিপশনটা হোয়াট্‌সঅ্যাপ করে দিলাম। সদ্য সদ্য ফল পেয়েছি। বিশ্বাস তুঙ্গে এখন।

দুপুর ৩.‌৪৭

যা ভেবেছিলাম, সারা ভারতই ভেবেছিল, লকডাউন অন্তত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত থাকছে। অর্থাৎ, আরও ২ সপ্তাহ। কারণ, আগামী ১৪ দিনই নাকি সবচেয়ে ভাইটাল। ভিডিও কনফারেন্সের শেষে সমস্ত মুখ্যমন্ত্রীকে এমনই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বেশ কয়েকটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী (‌দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গ, কেরল)‌ আর্জি‌ জানিয়েছেন, এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত লকডাউন চলুক। যা বোঝা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হলেও লকডাউন চলবে। আগামী ২/‌৩ দিনের মধ্যে সেই গাইডলাইন জানিয়ে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। ৩০ এপ্রিল নাগাদ আবার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে মুখ্যমন্ত্রীদের বলেছেন, তাঁর ফোন সবসময় খোলা থাকে। দরকার পড়লে যে কোনও সময় যে কোনও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, লকডাউন চললেও জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমণ্বয় রাখতে হবে।

বিকেল ৫.‌৩৫

কাল আর পরশু নবান্ন স্যানিটাইজ করা হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশিই জানালেন, রাজ্যে ‘হটস্পট’ বলে কিছু নেই। গণ সংক্রমণ আটকাতে বিশেষ কিছু এলাকায় নজরদারি করা হচ্ছে। আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে লকডাউন থাকবে। আগামী ১০ জুন পর্যন্ত স্কুল–কলেজ বন্ধ থাকবে। আসন্ন পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছাও আজই জানিয়ে দিলেন।

বিকেল ৫.‌৪৭

কোত্থেকে যেন সদ্য–ভাজা গরম গরম সিঙ্গাড়া আর গজা এসেছে অফিসে। লোভে পাপ। পাপে কোলেস্টেরল। কিন্তু আত্মাকে কষ্ট দিতে ইচ্ছে করল না। আর শুনেছি, উচ্চ তাপমাত্রায় কোভিড–১৯ মরে যায়। এ তো ফুটন্ত তেলে ভাজা হয়েছে!‌ তাহলে আর কীসের চিন্তা?‌ পেনকিলার খেয়ে চাঙ্গা হয়ে–ওঠা সনৎ বলল, স্যানিটাইজারেও ভাজা হয়ে থাকতে পারে। মোদ্দা কথা, খেয়ে ফেললাম। পয়সার জিনিস ফেলে দেওয়া ধর্মে সইবে না।

রাত ৮.‌৫৭

পেজ তৈরি। রিলিজ হবে কয়েক মিনিটে। আজকের মতো দোকান বন্ধ। কিন্তু সিঙ্গাড়া আর গজা সম্পৃক্ত একটা চোঁয়া ঢেকুর উঠল। অর্থাৎ, ডিনারের মেনু এক বোতল জল আর একটা অ্যান্টাসিড।

রাত ৯.‌৪৫

বেদম গরম ছিল সারাদিন। সকলে বলছিল, আজ নাকি কলকাতা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখন অবশ্য একটা ভারী মিঠে হাওয়া দিচ্ছে। বাড়ি ফিরে অসমাপ্ত দেবব্রত আবার চালিয়েছি। আজকের মতো ডায়েরি বন্ধ করার সময় ভেসে আসছে, ‘তরঙ্গ মিলায়ে যায়, তরঙ্গ উঠে। কুসুম ঝরিয়া পড়ে, কুসুম ফুটে।’

6 thoughts on “লকডাউন ডায়েরি – ১১ এপ্রিল, ২০২০

  1. Protita episode daroon lage. Iti Anindya diye suru kori pora apnar bondhu Shuvam er prosongsa sune. Ekhon amader birding grp er onekei apnar lekha pore.
    Lekha seshe besh abesh theke jay
    Bhalo thakben 🙏

    Like

  2. ইতি অনিন্দ্যটা লেখাটা আবার শুরু করুন প্লিজ। দারুন লাগে। লকডাউনের ডায়েরী টাও বেশ ভালো।

    Like

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s