লকডাউন ডায়েরি – ২৮ মার্চ, ২০২০

২৮.‌০৩.‌২০২০। শনিবার

সকাল ৭.‌৩২

ঘুম ভাঙল একবার। মোবাইলে টাইম দেখতে গিয়ে মনে পড়ল, কাল গভীর রাতে দেখেছি ইতালিতে শুধু কালকেই ৮৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। রেকর্ড!‌

সকাল ৯.‌৩৮

স্পোর্টসের সহকর্মী অগ্নির ফোনে আবার ঘুম ভাঙল। বেচারা বোর্‌ড হয়ে ফোন করছে। মুকুন্দপুরের বাড়িতে একা থাকে। হাত পুড়িয়ে রেঁধে খায়। ওর স্ত্রী আমেরিকার অরল্যান্ডোয় পড়ায়। এমনিতে অগ্নিকে মাঝেমধ্যেই বলি, তোমার জীবনটা তো ‘শোলে’র কয়েন। দু’দিকেই হেড!‌ বিয়েও করেছো। আবার বউও সঙ্গে থাকে না। কিন্তু সেসব নেহাতই ফিচেল রসিকতা। জীবন স্বাভাবিক থাকলে যেমন ইয়ার্কি করা যায়। আজ এবং এখন সেই সময় নয়। অগ্নিকে ঘোর চিন্তিত আর উদ্বিগ্ন লাগল। বলল, স্ত্রী–র সঙ্গে দিনে তিন–চারবার করে কথা হচ্ছে বটে। কিন্তু আমেরিকায় যে হারে করোনায় মৃত্যু বাড়ছে, তাতে শান্তি নেই। অগ্নির অশান্তির কারণ অবশ্য আরও আছে— ‘সিগারেট সঙ্কট, মধু নেই। বাঁচব কী করে!‌’ সত্যিই কোত্থাও সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে না। রেশন করে খেতে হচ্ছে। ‘মধু’টা কোডনেম। ওটায় বিস্তারিত যাচ্ছি না। অগ্নি ফোন রাখল ‘মেঘে ঢাকা তারা’র ডায়ালগ শুনিয়ে, ‘দাদা, আমি বাঁচতে চেয়েছিলাম!‌’ ওর হা–হা হাসিটা কানে বাজছে।

সকাল ৯.‌৫৫

ব্রাশ করতে গিয়ে খেয়াল করলাম ঠোঁটের ডান কোনায় একটা মিহি ফুসকুড়ি গজিয়েছে। হাঁ করতে গেলে সামান্য ব্যথা লাগছে। ‌আয়নার আমিকে প্রশ্ন করলাম, এ নিশ্চয়ই করোনার লক্ষণ নয়? আয়নার আমি জবাব দিল, ‘নাহ্‌। ভিটামিনের ঘাটতি। বেরিয়ে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ক্যাপসুল কিনে নিও।’ ঠিক আছে। ওষুধের দোকান খোলা পাব নিশ্চয়ই।

সকাল ১০.‌০৫

দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। টিভি বলছে। বলেই যাচ্ছে। নয়াবাদের প্রৌঢ়কে সর্বোচ্চ ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছে। কাল পর্যন্ত উনি কন্ট্রোল্‌ড ভেন্টিলেশনে ছিলেন। আপাতত ৮৯৮ জন আক্রান্ত সারা দেশে। রাত হওয়ার আগে হাজার ছাড়াবে নিশ্চিত। দেখতে দেখতে মনে হচ্ছে, এটা তো আসলে কোভিড–১৯ ভাইরাসে আক্রান্তদের পরিসংখ্যানই নয়। এটা যাদের পরীক্ষা করানো হয়েছে, তাদের সংখ্যা। এই বিশাল দেশে কি স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর মতো অ্যাওয়্যারনেস সকলের আছে?‌ নাকি সেই ইনফ্রাস্ট্রাকচার আছে?‌

আজ সকাল থেকে দূরদর্শনে রামানন্দ সাগরের পুরোন ‘রামায়ণ’ সিরিয়ালটা দেখানো শুরু হল। ৯টা থেকে ১০টা একঘন্টা। আবার রাত ৯টায় রিপিট। দেখিনি। তখনও খুব মন দিয়ে দেখতাম না। মনমোহন–পূর্ব জমানায় যে উন্মাদনা ছিল ওই ধরনের টিভি সিরিয়াল বা দূরদর্শন নিয়ে, তা কি এখনও থাকবে?‌ এখন তো ৭৮৭ রকমের চ্যানেল লোকের ড্রইংরুম, বেডরুম এমনকী, স্টোররুমেও। এখনও কি রাম আগের মতো টিআরপি খেতে পারবেন?‌ কে জানে!‌

সকাল ১০.‌৪০

তেহট্টের করোনা–আক্রান্তদের আজই এনে বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে ভর্তি করানো হচ্ছে। এবিপি আনন্দ বলছে, ওই পাঁচজনের ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের ভূমিকায় রাজ্য সরকার ক্ষুব্ধ। তবে স্বস্তির খবর, তারা সকলেই দিল্লি থেকে এসেছিল। অর্থাৎ, গণ সংক্রমণ এখনও নয় সম্ভবত। তবে তারা ট্রেনে করে এসেছিল পারিবারিক অনুষ্ঠানে। অন্যদের সংস্পর্শেও এসেছে। স্বাস্থ্য দফতর খোলা আবেদন জানিয়েছে, এদের সংস্পর্শে যারা এসেছে, তারা যেন এগিয়ে এসে সেটা জানায়। শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল, আমাদের মতো দেশে এভাবেই তো গোলমালটা শুরু হয়।

সকাল ১০.‌৫২

সুমন ফোন করল। ডিজাইনার সুমন। দক্ষিণ শহরতলিতে থাকে। বেশ খানিকটা দূরে বলে এখনও রোজ অফিসে আনা যাচ্ছে না ওকে। বলল, অফিসে এলে একটু ভাল লাগবে। বাড়িতে বসে বসে আর ভাল লাগছে না। ওর মা বর্ধমানে একটা পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। সেখানে আটকে পড়েছেন। খারাপ লাগছিল। বললাম, দেখা যাক কী করা যায়।

সকাল ১০.‌৫৫

কলকাতা এবং বাংলার বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট চেনের কর্ণধার বন্ধুর ফোন। দক্ষিণ কলকাতার বাড়িতে আপাতত সেল্‌ফ কোয়ারেন্টিনে। কন্যা আমেরিকায় পাঠরতা ছিল। বসবাস নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে। জোর করে নিয়ে এসেছে। তারপর থেকেই বন্দিজীবন। সঙ্গী বই আর নেটফ্লিক্স। অসহায় গলায় বলছিল, ‘অন্তত ২০ বছর পিছিয়ে গেলাম!‌ এস্টাবলিশমেন্টের ভাড়াটা তাও খানিকটা নেগোশিয়েট করে পরে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারি। কিন্তু স্টাফদের ওয়েজ তো দিতে হবে। আর ২০ বছর আগে লোকে যেমন মাসে একবার বা দু–মাসে একবার রেস্টুরেন্টে খেতে যেত, সেই দিনগুলো আবার ফিরে আসবে। কথায় কথায় বন্ধুবান্ধব নিয়ে হইহই করে বাইরে খেতে যাওয়া বা কাল সকাল থেকে লেকে মর্নিংওয়াক শুরু করব বলে ঝপ করে গিয়ে একটা নাইকি বা রিবকের ট্র্যাকস্যুট কিনে ফেলার দিন শেষ। এখন আমরা সকলে লকডাউন নিয়ে মেতে আছি। এর আফটার এফেক্টটা যে কী ভয়াবহ হবে, বুঝতেই পারছি না। ট্রাভেল অ্যান্ড ট্রেড ইন্ডাস্ট্রি উইল বি ওয়ার্স্ট হিট!‌ প্লাস কার্গো। দেখো, এখন আর কেউ সহজে বিদেশ–টিদেশও যাবে না।’ শুনে মাথা ঘুরছিল।

বেলা ১১.‌২২

বিতনুর ফোন। বলল, ‘করোনা যে কাউকে এভাবে ফিরিয়ে আনতে পারে, এটা ভাবিনি!‌’ বুঝলাম, ব্লগে ‘লকডাউন ডায়েরি’ শুরু করা নিয়ে রসিকতা করছে। তবে প্রশংসা শুনে মন্দ লাগল না। প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অন্যতম সেরা রিপোর্টার ছিল। এখন একটা নিউজ পোর্টাল চালায়। বিতনুর মতামতকে ব্যক্তিগতভাবে গুরুত্ব দিই। সেজন্য আরও চমকিত হলাম, যখন ও বলল, ‘এখন একটা সাপ্রেশন থিওরি তৈরি হয়েছে। সেটা হল, কম টেস্ট করাও। যত কম টেস্ট হবে, তত কম করোনা ধরা পড়বে। আর তত প্রমাণিত হবে যে, আমাদের দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কত ভাল। সিঙ্গাপুরে প্রতি ১০ লক্ষ লোকের মধ্যে ৬,০০০ লোকের টেস্ট হয়েছে। ভারতে প্রতি ১০ লক্ষে ১৮ জনের!‌ তাই উন্নত দেশে অনেক বেশি ধরা পড়ছে। বেশি প্রকাশ্যে আসছে। আমাদের দেশে এমনিতেই প্রচুর লোক হয়ত এখন করোনা নিয়ে ঘুরছে। তারা যখন কালের নিয়মে মারা যাবে, তখনও কেউ জানতে পারবে না যে, তাদেরও করোনা হয়েছিল।’ ঠিকই। ‘হু’ যেমন বলেছে, টেস্টিং ইজ দ্য বেস্ট প্রিভেন্টিভ মেজার।

ভাবতে ভাবতেই ভিতরের রিপোর্টার জেগে উঠল। বিতনুকে বললাম, এই খবরটা করতে পারিস যে, ‘টাইম্‌স অফ ইন্ডিয়া’ ইংরেজি নিউজ পোর্টাল ‘দ্য প্রিন্ট’কে আইনি নোটিস পাঠিয়েছে। ওই পোর্টালই প্রথম লিখেছিল, সম্ভাবনা খুব কম থাকলেও খবরের কাগজ আর কারেন্সি নোট থেকে করোনা সংক্রমণ হতে পারে। কিন্তু খবরটা আরেকবার ভাল করে চেক করে নিস।

বেলা ১২.‌৩০

অনেক খুঁজেপেতে গতকাল মাত্র এক প্যাকেট ম্যাগি পেয়েছিল শত্রুঘ্ন। সেটা কাল ডিনারে লেগে গিয়েছে। এবং তখনই একটা চমকপ্রদ তথ্য আবিষ্কার করেছি— ম্যাগি সেদ্ধ হওয়ার পর তাতে চানাচুর দিয়ে খেতে দারুণ লাগে!‌ কিন্তু বাড়িতে চানাচুর থাকলেও ম্যাগি নেই। ফলে নতুন রেসিপিও নেই। অতএব দুপুরে আবার থিন অ্যারারুট। অর্থাৎ, শরীরে গ্লুটেনের মাত্রা বৃদ্ধি।

বেলা ১২.৪৮

ডাক্তার অভিজিৎ চৌধুরিকে ফোন করলাম। বিভিন্ন চ্যানেলে তাঁর স্পিরিটটা দারুণ লাগছে বলতে। ফোন বেজে গেল।

দুপুর ১.‌৫৮

অভিজিৎ’দা কল ব্যাক করলেন। ‘হ্যালো’ বলার সঙ্গে সঙ্গে ওপাশ থেকে ভেসে এল স্পিরিটেড গলা, ‘এই লড়াইটা কিন্তু জিততে হবে অনিন্দ্য!‌ জিততেই হবে!‌’ বললেন, আপাতত গ্রামে–গঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। প্রথমে হুগলি। এখন বীরভূমে। বললেন, ‘গ্রামগুলোকে বাঁচাতে হবে। গ্রামে একবার ছড়িয়ে পড়লে আর রক্ষা নেই। আর আমাদের দেশ হল একটা বিশাল লখিন্দরের বাসর। কত যে ছিদ্র আছে!‌ কঠিন লড়াই। খুব কঠিন লড়াই।’ জিজ্ঞাসা করলাম, কী বুঝছেন?‌ জবাব এল, ‘এটুকু বুঝতে পারছি যে, আমাদের সামনে এখন অনেক কাজ। অনেক!‌’ শুনতে শুনতে শহরের আরও এক খ্যাতনামা ডাক্তারের কথা মনে পড়ছিল— ‘কেউ কিচ্ছু জানে না। সকলে অন্ধের হস্তিদর্শন করছে। আপনি–আমি সকলে। আমরা সকলে অন্ধ। কেউ হাতির লেজ ধরছি, কেউ শুঁড়, কেউ পা। আর নিজের নিজের মতো করে ব্যাখ্যা দিচ্ছি।’

মনে হচ্ছিল, আমরা সকলেই তো ১৪ এপ্রিলের কথা ভেবে কাউন্টডাউন শুরু করেছি। কিন্তু এটা কি সত্যি কাউন্টডাউন?‌ নাকি আসলে এটা একটা মিথ্যে আশা যে, ১৪ এপ্রিলের পর লকডাউন উঠে যাবে?‌ বিশেষজ্ঞরা তো বলছেন, সংক্রমণের চেন পুরোপুরি ভাঙতে টানা ৪৯ দিন লকডাউন করা উচিত!‌

দুপুর ২.‌২৭

ভিটামিন বি ক্যাপসুল পেয়েছি। একটু আগে অফিসে পৌঁছলাম। অভীক, দুই অনির্বাণ, পীতাম্বর আর ডিজাইনার শুভম এসেছে। সকলেই গম্ভীর। দুই অনির্বাণের মধ্যে মজুমদার সকালে পরিচিতদের মধ্যে ত্রাণ বিলি করতে বেরিয়েছিল। ওকে অনুরোধ করেছিলাম, সাউথ সিটির স্পেনসার্সে যদি মাংস বা মাছ পাওয়া যায়। চেতলার বাড়িতে বাচ্চাদের খাবার ফুরোচ্ছে। গিয়েছিল ও। লাইন এসেছে প্রিন্স আনোয়ার শা রোড পর্যন্ত। তবে ব্যবস্থা ভাল। শৃঙ্খলাও আছে। মাথাপিছু ৩০ মিনিট সময় বাজার করার। তবে স্পেনসার্সে ততক্ষণে মাংস ফুরিয়েছে। চার পিস গোটা তেলাপিয়া মাছ পেয়ে নিয়ে এসেছে। ভাগ্যিস!‌ কিছু তো হল।

সল্টলেকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মা ফ্লাইওভার ধরে দক্ষিণে গিয়েছিলাম। একটু হালচাল দেখতে। দেখলাম, লোকজন লকডাউন মানছেন। সমস্ত গ্রসারি স্টোরের সামনে পাঁচ ফুটের দূরত্বে গোল গোল সাদা দাগ। দেখে মনে হচ্ছিল, সেই আদ্যিকালের ববি প্রিন্টের শার্ট। গন্ডির মধ্যে দাঁড়িয়ে শান্তভাবে অপেক্ষা করছেন ক্রেতারা।


কাল গভীর রাতেও উঠেছিলাম উড়ালপুলে। দক্ষিণ থেকে পূবে ফিরতে ফিরতে দেখলাম, কালো আকাশের ব্যাকগ্রাউন্ডে ঝলমলে সোনালি আলো জ্বালিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আইটিসি রয়্যাল বেঙ্গল। বাঘের মতো। কিন্তু দেহে প্রাণ নেই। মনে হচ্ছিল, অতিকায় কোনও শিকারী তাকে চিরকালের মতো ঘুম পাড়িয়ে স্টাফ–করা চামড়াটা ঝুলিয়ে রেখেছে আকাশের গায়ে। গাড়ির চাকার নীচে অতিকায় অজগরের মতো পড়ে আছে পিচের রাস্তা। নিষ্প্রাণ। আজ দুপুরে ফ্লাইওভার ধরে যেতে যেতে এক আজব চিড়িয়া দেখলাম। বিদেশি সাইক্লিস্ট। রেসিং সাইকেল চালিয়ে চলেছে। মাথায় হেলমেট। চোখে গগ্‌লস। গায়ের উইন্ডচিটার ঘামে লেপ্টে আছে। কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত টাইট থাই–হ্যাগার। পেডাল পড়ছে দ্রুত। মনে হল, একবার থামিয়ে কথা বলি। কিন্তু লোকটা একেবারে উল্টোদিকের রাস্তায়। আর ফাঁকা ফ্লাইওভারেও গাড়ি দাঁড় করালে কেস খেতাম নির্ঘাত!‌

বেলা ৩.‌৫২

আজ সম্পাদকীয় বৈঠক খুব লম্বা চলল না। অশোক’দাকে জানালাম, সল্টলেকের বাড়িতে না এলেও চেতলার বাড়িতে প্রায় সব কাগজই এসেছে। অর্থাৎ, কাগজ বিলি শুরু করেছেন হকাররা। আজও আটপাতার কাগজ। ইনস্টাগ্রামে ভিডিও দেখছি, অনুষ্কা শর্মা বাড়িতে বিরাট কোহলির চুল ছাঁটছে। গত কয়েকদিন ধরেই ভাবছিলাম, এই কাপ্‌ল কবে আবার নিজেদের ছবি আপলোড করবে। বেচারাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তগুলোও পণ্য করতে হয়। হায় রে কনজিউমারিস্ট দুনিয়া!‌

বিকেল ৪.‌০২

একটা ব্যাপক পোস্ট দেখলাম ফেসবুকে— ‘১ দিন লকডাউনে ডলফিন ফিরে এসেছে। ৫ দিন লকডাউনে পাখি ডাকছে। এরপর ১৪ দিনে বামফ্রন্ট সরকার ফিরবে।’

সন্ধ্যা ৬.‌৫৮

সনৎ আজ আর কাল আসবে না। ফোন করলাম ওর স্ত্রী কেমন আছে জানতে। বলল, ‘প্যারাসিটামল দিয়েছি। জ্বরটা কমেছে। এখন একটু বেটার।’

সন্ধ্যা ৬.‌৫৯

বিতনুর পোর্টাল খবরটা করেছে। লিঙ্ক পাঠাল।

সন্ধ্যা ৭.‌১৫

সহকর্মী অনির্বাণ সেনগুপ্ত বলল, ‘আমেরিকায় গত ৮ মার্চ করোনা–আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৪১ জন। ২৭ মার্চ সেটা হয়েছে ৯৪,৪২৫।’

সন্ধ্যা ৭.৩৩

বিরাট দুঃসংবাদ!‌ রাতে সবিতা’দি আসতে পারছে না। যা দাঁড়াল, দ্রুত পেজ রিলিজ করে বেরিয়ে বাড়ি গিয়ে বাবা–মায়ের জন্য রান্না করতে হবে। নইলে দুই বৃদ্ধ–বৃদ্ধাকে পাঁউরুটি খেয়েই রাতটা কাটাতে হবে। ৭.‌৩৬

রাহুল গান্ধী একটা ছবি টুইট করেছেন। গাজিয়াবাদের বাস স্ট্যান্ডে গিজগিজ করছে মানুষ। সকলে বাড়ি ফিরতে চান। অকল্পনীয়!‌ অবশ্য এই তো আমাদের দেশ।

সন্ধ্যা ৭.‌৪৩

টিভি–তে বলছে, রাজ্যে আরও দু’জনের দেখে করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। দু’জনেরই সিম্পটম দেখা দেওয়ায় কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। একজনের বয়স ৭৬। অন্যজনের ৫৬। আমার এখন ৫১ চলছে!‌

রাত ৮.‌৩৯

‌দিল্লির আনন্দ বিহার বাস টার্মিনাসের ছবি দেখাচ্ছে টিভি। গিজগিজ করছে লোক। সকলেই মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাস করেন। দেশের রাজধানী দিল্লিতে এসেছিলেন রুজির ধান্দায়। করোনার জন্য কাজকর্ম বন্ধ। এখন ভীতু মানুষগুলো বাড়ি ফিরতে চান। বাস ধরতে এসেছেন আনন্দ বিহারে। একনজরে দেখে মনে হচ্ছে অন্তত ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ মানুষ। পোকামাকড়, মশামাছির মতো। মৌচাকে ঝাঁক–বাঁধা মৌমাছির মতো। থিকথিক করছে। কী হবে এঁদের মধ্যে যদি মাত্র একজনের দেহেও কোভিড–১৯ থাকে।‌ ভাবতেই শরীর খারাপ লাগছে!‌

রাত ৯.২১

আজকের মতো ডায়েরি বন্ধ করি। আর লিখতে পারছি না। আনন্দ বিহারের ছবিটা মাথার মধ্যে ফিরে ফিরে আসছে অনবরত। খানিকক্ষণ আগে স্ক্রল করতে করতে ফেসবুকে শর্মিষ্ঠা গোস্বামী চ্যাটার্জির ওয়ালে দেখলাম ১৯৬৫ সালে বিবিসি–র অনুষ্ঠানে গিটার নিয়ে গাওয়া জোন বায়েজের ‘ইউ শ্যাল ওভারকাম’ গানটা। নিজেকে প্রাণপণে সেটাই বলার চেষ্টা করছি— উই শ্যাল ওভারকাম সাম ডে। সাম ডে!‌ বাট হুইচ ডে?‌ হোয়েন?‌

4 thoughts on “লকডাউন ডায়েরি – ২৮ মার্চ, ২০২০

  1. আপনার বাবা মা র প্রতি কর্তব্য বোধের তাগিদ আজকের তরুণ সমাজকে আলো দেখাক এই কামনা করি। ভাল থাকবেন।

    Like

  2. Informative, abosyo setai savabik apner theke. Tobe mone hochhe Corona te na morleo Corona r bhoyei moore jabo. Aro 28din ki lockdown hote pare. Parle janan.

    Like

Leave a Reply to anindya jana Cancel reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s